দিনলিপি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
দিনলিপি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২ মে, ২০২২

রমজানে মী-টাইম, উই-টাইম বের করা খুব টাফ ছিলো। রমজানের একটা ব্যস্ততা তো থাকেই তার সাথে সাথে সবার অফিসের কাজের চাপ। সবমিলিয়ে আমরা একসাথে থাকলেও ছিলাম না থাকার মতোই। রোজ দেখা হতো, ইফতারে টুকটাক আলাপ হতো কিন্তু জম্পেশ গল্প হতো না। যেটাকে সবাই খুব মিস করছিলাম। 

বাইশ রমজানে আমার স্কুল ছুটি হলো, ছোটোদের স্কুল-কলেজ সাথে ভাইয়াদের অফিসও। একটা ভ্যাকেশন আসলো। প্রতিটা মুহুর্ত কাটালাম একসাথে।  আমরা ছোটো থেকেই একজন আরেকজনের পছন্দকে প্রাধান্য দেই। সেই মোতাবেক একসাথে দল বেঁধে কেনাকাটা করেছি। ঘুরেছি। রাতের শহর দেখেছি। মানুষের আনন্দ দেখেছি। উদযাপনের প্রস্তুতি দেখেছি। একরাশ উৎসব যেন মৌ-মৌ করে ঘিরে ধরেছে আমাদের। আমরা সব ভাই-বোনরা যখন খুব আনন্দে থাকি, জড়াজড়ি করে থাকি বড়োআম্মুদের চোখেমুখে খুশির ফোয়ারা দেখতে পাই। আমাদের আনন্দই যেনো উনাদের তৃপ্তি।

আমরা গল্প করি রেনডমলি। টং এর দোকানে বসে চায়ের কাপে যেভাবে মুরব্বিয়ানরা ঝড় তুলে রাজনৈতিক আলাপ থেকে শুরু করে ক্রিকেট, ক্রিকেট থেকে শুরু করে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি নিয়ে, আমাদের আড্ডাটাও খানিকটা তেমন। আমরা বলি, পৃথিবীর সব আড্ডাই যে শিক্ষণীয় হতে হবে তার কোনো মানে হয় না। আমরা খোশমেজাজে হেসেখেলে কথা বলি, কথা শুনি। আমরা একসাথে সময় কাটাচ্ছি, নিজেদের ভাগ করে নিচ্ছি আমাদের কাছে এটাই ইম্পরট্যান্ট। পয়েন্ট টু বি নোটেট আমরা একা না, আমরা একসাথে আছি। ইটস এ্যা আলটিমেট ম্যাজিক্যাল থিঙক আমাদের কাছে।  

তারাবির পর, গত পরশুরাতে সবাই একসাথে নুহাশ হুমায়ুনের 'পেট কাটা— ষ' সিরিজটা দেখলাম। কি দারুন কনসেপ্ট! কি দারুন এক্সিকিউশন! এটা দেখার বিশেষ কারন গল্পগুলো একেবারেই আমাদের। আমাদের চিরচেনা মিথের গল্প। আমাদের শৈশবের গল্প।আমাদের শেকড়ের গল্প। যে গল্পগুলোর সাথে মিশে আছে আমাদের মায়েরা, আমাদের দাদিরা। এমন একটা হরর সিরিজ সব ভাই-বোন একসাথে বসে দেখাটাই হ্যাপীনেস ছিলো আমাদের কাছে। 

আজ চাঁনরাত। এই রাতে বেসিক্যালি আমরা ঘুমাই না। কেউ ঘুণাক্ষরে ঘুমালেও নানা যন্ত্রনায় জোর করে তাকে জাগিয়ে রাখা হয়। এসব মিষ্টি অত্যাচার ভালোবাসার, মায়ার, একসাথে জেগে থাকার, স্মৃতিভান্ডার মজবুত করার। সারারাত একেক টপিকে খোশগল্পে মেতে থাকি। প্রতিটা রুমে মানুষে মানুষে গিজগিজ করে। সব আপনা মানুষ। সবাই সবার কথা ভাগাভাগি করে। টিভি দেখে। নিউজ দেখে। লো সাউন্ডে বাজতে থাকে আপামর বাঙালির মননে গেঁথে যাওয়া সেই গান— ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ, তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানী তাগিদ। চাঁনরাতে সবচে গুরুত্বপূর্ণ ডিপার্টমেন্ট রন্ধনশালা। এটা থাকে সবচে জমজমাট। সমানে মশলাপাতির প্রস্তুতি চলে, মায়েরা কালকের জন্য কি করবে না করবে তার জন্য ছোটো ছোটো সভারও আয়োজন করেন। রন্ধনশালার রাজত্ব একেবারেই উনাদের হাতে। পাঁচফোড়ন হয়ে আমাদের প্রবেশ করবার কোনো জো নেই। 

অন্যদিকে, আমরা এত্তোগুলা ভাই-বোন ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকি না। ছোটো থেকেই জড়াজড়ি করে থাকাটাই আমাদের অভ্যাস। এক বিছানায় শুয়ে বসে কাটিয়ে দেই। সত্যি বলতে এমন চাঁনরাত উদযাপনই— আমাদের ঈদ, আমাদের আনন্দ। আমরা এখনো বড়ো হইনি, বুড়ো হইনি। ঈদ আমাদের কাছে এখনো আনন্দের। আমাদের মধ্যে  ঈদের আনন্দ এখনো নিরানন্দ হয়ে আসে নি। সেই ছোটোবেলার মতো একই আগ্রহ কাজ করে। আমরা এখনো দুরন্ত। আমরা এখনো উল্লাসপ্রিয়। আমাদের শৈশব এখনো প্রাণবন্ত, জীবিত। মাঝেমধ্যে আমরা একজন আরেকজনের মুখের দিকে তাকিয়ে বলি— হাউ লাকি উই অ্যার! 

ঈদ মুবারক। 
দুই । পাঁচ । দুই হাজার বাইশ ।

মঙ্গলবার, ১ মার্চ, ২০২২

শবে মে'রাজের রাত নিয়ে ইবাদত বন্দেগির পাশাপাশি কিছু কৃষ্টি কালচারও আমাদের পরিবারে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। আমাদের ছোটোবেলা থেকেই আমরা দেখে আসছি শবে মে'রাজ আসবে আসবে সময় থেকেই আমাদের পরিবারে একটা পবিত্রতার শীতল হাওয়া বইতে থাকে। ছোটো থেকে বড়ো সব সদস্যদের অন্তরালে শবে মে'রাজ উদ্‌যাপনের ব্যাপক তোড়জোড় চলতে দেখি। আমরা বছরে নির্দিষ্ট কয়েকটা দিন সর্বোচ্চ ভালো পোশাক পড়ার চেষ্টা করি, তারমধ্যে শবে মে'রাজের রাত একটি। সবচে ভালো জামাটা ধুয়ে আম্মা নতুনের মতো করে রাখতেন আর আমরা সেটি পড়ে নামাজ পড়তাম। 

শবে মে'রাজের দিন সকাল থেকেই বাসায় একটা সেলিব্রেশনের আমেজ ক্রিয়েট হয়। যে বছর যতটুকু সামর্থ্য হয় ঠিক ততটুকু দিয়েই ভালো-মন্দ খাবার দাবারের আয়োজন করা হয়। শবে মে'রাজ যে খুউব বিশেষ এটি আমরা ছোটো বয়স থেকেই পরিবারের উদ্‌যাপনের আমেজ দেখে বুঝতে পারতাম। 

সব শবে মে'রাজের রাতেই— এশারের পর নফল নামাজ আদায় শেষে, আমরা সবাই গোল করে বসি। বাড়ির বাচ্চারা একে একে নাতে মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করে। চারিদিক থেকে মারহাবা মারহাবা বলে— আমরা তাদের উৎসাহ বাড়িয়ে দেই। তারপর পরিবারের সবচে বয়োজ্যেষ্ঠ কেউ— মে'রাজ গমনের বর্ণনা করে। প্রায় দেড়/দুই ঘন্টা ধরে চলে এই আলোচনা। প্রতিবছর একই ঘটনা, একই বর্ণনা কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন ভোকালে আমরা আমাদের মতো করে নতুনভাবে এটার স্বাদ গ্রহণ করি। এখন অবশ্য মাঝেমধ্যে আমাকেও সুযোগ দেয় কিছু বলতে। যার জন্য আমি বিশেষ প্রস্তুতিও নিয়ে রাখি। আলোচনার ফাঁকফুকুরে শ্রোতাদের মুখের দিকে তাকাই, আর দেখি— আমি যতই মে'রাজ গমনের বর্ণানার দিকে আগাই তাদের চোখমুখ ততই রোমাঞ্চিত হয় ওঠে।  

স্বভাবত আমরা আমাদের বিশেষ দিনগুলা পরিবার নিয়ে আষ্ঠেপৃষ্টে জড়াজড়ি করে উদযাপন করি। মুরব্বী কিসিমের সদস্যরা তাদের শৈশবের মে'রাজ কেমন ছিলো, গ্রামকেন্দ্রিক মে'রাজ কিভাবে উদ্‌যাপন হয় এসব স্মৃতি অনর্গলভাবে আওরাতে থাকেন। সেহেরির কিছু আগে— পাড়ার মসজিদ থেকে ইমাম সাহেবের সুরেলা কন্ঠে ভেসে আসে, "আসমানোহি পর সব নবী রাহ গেয়ে, আরশ আযমপে পৌঁহছা হামারা নবী...........ছবছে আওলা ও আলা, হামারা নবী, ছবছে বালা ও আলা, হামারা নবী" আমরা সবে সুরে সুর মিলাই। গাইতে থাকি। 

এভাবেই আমরা হৈ-হৈ রৈ-রৈ করে মে'রাজ উদ্‌যাপন করি। সারারাত জেগে থাকি। আমার এতটুকু বয়সে আমি কোনোদিন একটা নিরানন্দ মে'রাজের রাত দেখিনি। ছোটোবেলা থেকে দেখে আসছি, আমাদের মে'রাজ রজনী খুব উৎসবমুখর। আলোকিত। জ্বলমলে। আজ-ও আমরা খুব দরদ নিয়ে এই দিনগুলা উদ্‌যাপন করি, আয়োজন করি। আমাদের এই দিনের, এই রাতের সেলিব্রেশন নিয়ে বিশেষ এক 'আল্লাদ' আছে। 

১ মার্চ, ২০২২ইং। 
শবে মে'রাজ রজনী।

শনিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২২

রোজনামা— ০১

একটা বছর যায় আর— আমি ক্রমশ পৃথিবীর আদিমতম কেউ হয়ে উঠি। আমার সাথে সাথে একটা ঐতিহ্য, একটা ইতিহাস বাড়তে থাকে— বৃদ্ধ হয়। দিস্তা-দিস্তা নতুন সংযোজন হতে থাকে। পুরোনো অনেক কিছুকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। 
একটা মফস্বল হারিয়ে ফেলে তার নিজের গতিপথ। একা— এক সময় স-ব পুরোনো মিলিয়ে যায় বাতাসের সাথে। সেই—সব কিছুর রাজসাক্ষী হয়ে বেড়ে উঠছি আমি। আমার আগামীর কাছে— আমি আদিম মানুষে রুপ নিচ্ছি।

দুই হাজার-কুড়িতে যেই শূন্যতা আমাকে পেয়ে বসেছে— সেই শূন্যতা কোনো বছরের পূর্ণতা দিয়ে পূরণ করা সম্ভব না। শূন্যতা শূন্যতাই। বেদনার যেমন কোনো রঙ হয় না—শূন্যতারও না। তবুও— সব কিছু ছাপিয়ে বলতে হয়, একুশ আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে— বরঞ্চ, দু'হাত ভরে দিয়েছে। সবচে বড়ো কথা একুশ আমাকে আচমকা বড়ো করেছে। আম্মার বিয়োগে— ঘরের ছাদ ফুড়ে আকাশ স্পর্শ করার মতোন বড়ো করেছে। 

একুশের এই যাত্রায়— অনেকের সাথে আলাপ হয়েছে, কাজ হয়েছে। অজস্র পরিপূর্ণতা আমাকে ছুঁয়েছে। কৃতজ্ঞতায় আমার রুহ গলে যায়— গদগদ হয়ে ওঠে।

দিনশেষে আমিও কাঠগড়ায়। দীর্ঘতম শ্বাস নিয়ে বলতে হয়— মানুষ তো! গালগল্পে— নিজেকে মাটির মানুষ হিসাবে চর্চা করতে করতে, চোখ তো কখনো কখনো অহংবোধের সাথে কথার ফুলঝুরি ছিটায়। আমার করা সেইসব অহংবোধ— যদি কারোর কোনো দুঃখের কারন হয়ে থাকে; তবে ক্ষমা চাই। 

'বাইশ' আমার জীবনে একুশের মতোই হুল্লোড়ে থাকুক। পূর্ণতায় থাকুক। মায়াতে থাকুক। আমার প্রতিটা নতুন বছর যেনো কেবল সংখ্যা বদলে আসে— একুশের আদলেই। এটাই চাওয়া। আপনারা  আমাকে মঙ্গল কামনায় রাখবেন। 

উঠোন জুড়ে মিঠাদুপুর— ভাবি; আমার— এখনো কত সকাল দেখা বাকি, এখনো কত রাত নামে নি। এখনো কত দুঃখ ছোঁয় নি আমায়, এখনো কত সুখের তৃপ্তি— অনাদায়ী। 

সবাই কে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। অনেক অনেক শুভেচ্ছা। 
ফজরে মুয়াজ্জিনের দরদমাখা কন্ঠ, অলসদুপুর, ট্রাফিকজ্যাম, মাগরিবের নীরবতা— সব কিছু ছুঁয়ে যাক আপনাকে; আমাকে। যা কিছু ভুল— ভুলে যান। নতুন করে মরমি মোলাকাত দিয়ে শুরু করেন পুরানো ধাঁচের নতুন হালখাতা। 🌿

শুক্রবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২১

চোখের— সামান্য সুখের জন্য কয়েক মুহূর্ত আগুন উড়ানোর উৎসব চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োগ করে কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা করার পরও আমরা ব্যর্থ— শব্দবাজির দাপটের কাছে। 
নিয়মমাফিক, অনিয়ম 'বরদাস্ত' করা দিয়েই শুরু হয় আমাদের প্রতিটা বছর। আমরা কেবল সহনশীল জাতি প্রমাণর্থে দাবিয়ে রাখি— আমাদের রুহের ভেতরকার আলাপকে। হায়! রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি? রাত পোহাবার আর কত দেরি পাঞ্জেরি? 

এক । এক । বাইশ ।

বৃহস্পতিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২১

আপনি সেই চাদর—
যে চাদর উম দেয়— দরদের ঘোর লাগায়।
আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখে। মস্তিষ্কের কোনায় কোনায় মায়ার খুশবু ছিটায়। নীরব নিবিড় দোলা দেয়— প্রাণে-প্রাণে, গানে-গানে, ফুলে-ফুলে।

রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বাইয়ানি সাগিরা.................

৩০/১২/২১

মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১

আমাদের প্রত্যেকের জীবনে,
নীরেন্দ্রনাথের বন্ধু— অমলকান্তি'র মতো একটা বন্ধু থাকে। 
থাকে—ই। 
যে— রোজ দেরি করে ক্লাসে আসে, পড়া পারে না। 
শব্দরূপ জিজ্ঞেস করলে অবাক হয়ে জানালার দিকে তাকিয়ে থাকে।
যে— ডাক্তার, মাষ্টার, উকিল কিচ্ছু হতে চায় না। কিচ্ছু না।
যে শুধু রোদ্দুর হতে চায়— শুধুই রোদ্দুর। ক্ষান্তবর্ষণ কাক-ডাকা বিকেলের সেই লাজুক— রোদ্দুর।

২৯/১২/২১

মঙ্গলবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২১

আম্মা—
যিনি আমার জন্মদিন গোটা গোটা অক্ষরে মনে রাখতেন। মস্তিষ্কে না কেবল, কলবেও গেঁথে রাখতেন। একটু বড়ো হওয়ার পর যখন বুঝতে শিখি; তখন যা দেখতাম তা হলো— ডিসেম্বর মাস ডুকলেই আম্মা ঘনঘন ক্যালেন্ডার দেখতেন আর খুব খোশমেজাজে থাকতেন। জন্মদিনের দিন যত ঘনিয়ে আসতো আম্মার খোশমেজাজের খুশবু— আমার চারপাশে তত বেশি মৌ-মৌ করত।  যেদিন আমার জন্ম সেদিন আম্মার‌ও 'মা' হিসাবে জন্ম। নতুন পরিচয়ে নতুন পৃথিবীতে প্রজাপতির মতোন পাখা মেলা। সর্বমহলে নতুন পরিচিতি। মায়ের পরিচিতি।
কি উৎসব! কি আমেজ! একজন কন্যারূপে পদার্পণ, আরেকজন মা। স্বাভাবিকভাবেই আম্মার কাছে দিনটি স্পেশাল, শুধু কি স্পেশাল— অনেক দরদের, অনেক মমতারও। 

আম্মা বিশ্বাস করেন— অসংখ্যা মানুষ আমাকে নিঃস্বার্থে ভালোবাসে। স্মরণ করে। আমি খুব ভয় পাই এসব ভালোবাসায়, এসব মমতায়। আমি খেই হারিয়ে ফেলি। কিছু বলার থাকলেও বলতে পারিনা। প্রকাশ করতে পারি না। সব ভালোবাসার তো আর প্রতিউত্তর হয় না —তাই না আম্মা?  তাই ফ্যালফ্যাল চোখে শুধু দেখে যাই আর ভাবি মানুষ কত নরম! মখমল কোন্ ছার! হতে পারে হাউয়াই মিঠাইয়ের মতোন।

প্রবাদে আছে না—মানুষ ভালোবাসার কাঙাল। সে যেই হোক না কেন ছলেবলে সে ভালোবাসা চায় এবং ভালোবাসা নিয়ে ভালো থাকতে স্বাছন্দ্য বোধ করে। আমিও চাই আম্মা, তবে আপনার ভালোবাসা। শুধুই আপনার।  আমি আপনারে নিয়াই থাকতে চাই— আমার জীবনের প্রতিটা জন্মদিন, প্রতিটা উৎসব, প্রতিটা হুল্লোড়, প্রতিটা মুহূর্তে। 
বিশ্বাস করেন—আখেরে আপনার চলে যাওয়া আমার কাছে আপনার থেকে যাওয়ার মতোই রঙীন। চান্নিপসর রাতের ঢঙে ফকফকে রঙীন। 

দ্যাখেন— আজকে কতশত মানুষ ইনবক্সে  শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছে। কিন্তু কেউ আপনার মতোন 'প্রথম' হতে চায়নি। প্রথম শুভেচ্ছা জানিয়েছে এটা নিয়ে আমার সাথে তর্কালাপে জড়ায়নি। কেউ না। 

আম্মা প্লিজ— দিনটা শেষ হওয়ার আগে দ্রুত 'হ্যাপি বার্থডে; আমিই প্রথম' —বইলা আপনার শুভেচ্ছাবার্তা পাঠান ; সাথে বেনামি অর্কিডের তোড়াটাও। আমি অপেক্ষায় আছি। 
শুনেন; আজকে পাঠান, কালকে পাঠান বা পরশু পাঠান—আমার কাছে আপনিই প্রথম। 
আপনার বার্তার পর সবার বার্তা কাউন্ট করবো। আপনি কোনোদিন দ্বিতীয় না। প্রথম। প্রথমই। আপনাকে কদমবুসি, আম্মা। 

৭/১২/২০২১

রবিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২১

প্রতিটা মানুষের জীবনে উদযাপনের জন্য একটি বিশেষ দিন থাকে। 'জন্মদিন' সেই দিনের একদিন। আমার মনে হয়, জন্মদিন আর মা একটি আরেকটির সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে । 
আমি জানি, এই দিনে আরিফার নিশ্চয়ই আম্মার কথা মনে পড়ছে। খুব মনে পড়ছে।

বুকের ভেতর কি যে হাহাকার চলছে।
এক অদ্ভুত যন্ত্রণা— মনে পড়ছে কিন্তু প্রকাশ করতে পারছে না। কান্নাগুলো জমে জমে মেঘ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু বৃষ্টির মতোন ঝড়ে পড়ছে না।

আরিফা,
তোর জন্য—
আমার সবটুকু ভালোবাসা।
আমার সবটুকু বসন্ত। 
আমার সবটুকু মন-খারাপ। 
আমি 'আমাকে' তোর নামে—লিখে দিলাম।
পুরোটা দিলাম—

প্রতিবছর নিয়ম করে 'প্রথম' শুভেচ্ছা জানাতো আম্মা— এইবার না হয় 'আমিই' জানালাম, 'আমরা' জানালাম।

হ্যাপি বার্থডে আরিফা। 
কথা দিলাম, তোকে মাথায় করে রাখবো—যেমনটা আম্মা রাখতো। তোর জন্য লাল টুকটুকে ভালোবাসা।  ♥

২২/১১/২১ 

বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২১

১|

বৃহস্পতিবার। ভোর ৪টা ৩০। নিয়মমাফিক মোবাইলের এলার্মেই ঘুম ভাঙলো। শহরে এখনো ঝাঁকিয়ে শীত না নামলেও হালকা শীতের আমেজ তো বইছেই।  চারিদিকটা তাই হালকা কুয়াশায় আচ্ছন্ন। কুয়াশার বুক ভেদ করে যেন— ফুটে উঠছে আলোর রেখা। মক্তব থেকে কুয়াশায় ভেসে আসছিলো মুয়াজ্জিনের দরদিয়া কণ্ঠে—"আস-সলাতু খাইরুম মিনান নাউম/ আস-সলাতু খাইরুম মিনান নাউম"। সালাত শেষ করলাম। তারপর দ্বিতীয় দফায় আবার ঘুমের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ক্লাস- সকাল ৯টা ৪০-এ। ভার্সিটির গাড়ি- ৯টা ২০-এ। মোবাইলে এলার্ম সেট করলাম ৮টা ৫০-এ। সময়মত 'ক্রিং ক্রিং' টোনে এলার্ম বেজেই চলছিলো, কিন্তু ঘুম আর ভাঙতে চাচ্ছিলোই না। গড়িমসি করে উঠতে উঠতে ভার্সিটির গাড়ির আর নাগাল পেলাম না। ক্লাসটাও যেন মিস না হয় তাই তড়িঘড়ি করে, টাট্টুঘোড়ার মতো ছুটতে লাগলাম।  

"Research Methodologies & Action Research" এবং "The Literature of Civil Rights" এর পরপর দুটো ক্লাস শেষ করে স্বস্তিতে গাড়িতে চাপলাম। মেইন সড়কে এসে আরেকটা গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে আছি। পিছন থেকে একটা ট্রাক খুব ফাস্ট ছুঁ মেরে আমাদের শরীর ছুঁয়ে গেল। একেবারে গা ঘেঁষে যাওয়া যাকে বলে। আমাদের পজিশন  যদি একটু এদিক সেদিক হতো আজকেই আমাদের নামের আগে 'মৃত অমুক / মৃত তমুক' লাগতে পারতো। কিন্তু সবই তাঁর ইচ্ছে।  আমরা এখনো নিঃশ্বাস নিচ্ছি। আমরা এখনো বেঁচে আছি।

কুরআনের বিভিন্ন স্থানে বলে দেয়া হয়েছে যে, মৃত্যুর জন্য সময় নির্ধারিত রয়েছে। সে সময় উপস্থিত হয়ে গেলে কেউ বাঁচতে পারবে না। আবার যদি সে সময় তখনো না আসে, তা হলে কেউ মরতেও পারবেনা।

এভাবেই নানা জায়গায় বলা হয়েছে, কোনো কষ্ট বা ক্ষতিসাধন করা না করা একান্তভাবেই আল্লাহর ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। যতক্ষণ পর্যন্ত তাঁর ইচ্ছা ও হুকুম না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ আমাদেরকে কষ্ট দিতে ও ক্ষতি সাধন করতে পারবেনা। আর যখন তার পক্ষ থেকে হুকুম হবে, তখন কেউ আমাদেরকে কষ্ট ও ক্ষতি থেকে রক্ষাও করতে পারবেনা।

>>সূরা আল ইমরানে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর কারো মৃত্যু আসতে পারে না আল্লাহর হুকুম ব্যতীত। (মৃত্যুর জন্য) নির্ধারিত সময় লেখা হয়ে গেছে।’ (সূরা আল ইমরান : আয়াত ১৪৫)। 

>>অন্য আরেক জায়গায় বলা হয়েছে, ‘যখন তাদের মৃত্যুকাল উপস্থিত হয়ে যাবে, তখন না এক মুহূর্ত পেছনে থাকতে পারবে, না এগিয়ে যেতে পারবে (ঠিক নির্ধারিত সময়ে তুলে নেয়া হবে)। (সূরা ইউনুস : আয়াত ৪৯)।

২| 

দুপুর ১:৪০। ওই যে ট্রাক এক্সিডেন্টের ঘটনাটি ঘটলো সেই সুবাধে সড়কপথে কিছুক্ষণ দাড়িয়ে আছি। সময় নিচ্ছিলাম, গাড়িতে চড়চ্ছিনা। ছোটো খালার বাসা থেকে পায়ে হেটে মাত্র ৬/৭ মিনিট পথের দূরত্বে অবস্থান করছিলাম। পেটে প্রচণ্ড খিদা। প্রয়োজনীয় কিছু কাজ আছে, বাসায় গিয়ে খাওয়ার সময়ও নাই।  তাই ভাবলাম ডিম চপই হয়তো আজকের দুপুরের খাবার। কিন্তু মনে মনে ছোটো খালার বাসায় গিয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করার কথাও মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। ভাবতে ভাবতেই আচমকা ফোনটা বেজে উঠলো। কাকতালীয়ভাবে ফোনের স্ক্রিনে দেখলাম 'ছোটো খালা'।  কোনো কাজটাজ দিবে ভেবে কলটা ধরিনি।  আবার কল। তারপর আবার কল। অবশেষে ধরলাম। ও-পাশ থেকে বেশ ধমকের সুরেই বলছেন—কিরে ফোন ধরিস না কেন? তুই আশেপাশে থাকলে বাসায় আয়। কাজ আছে। কাজের কথা শুনে মুখ আর মন দুটোই পানসে হয়ে গেল। 

তারপর ভাবলাম, যেহেতু উনার বাসার আশ-পাশেই ঘুরঘুর করছি তারচে বরং চলেই যাই। গেলাম। প্রায় ২টা ৩০ ছুঁইছুঁই। উনার বাসায়, কবজি ডুবিয়ে হাঁসের মাংস আর পোলাও খেলাম। সাথে মাখানো সালাদ। আমার খুব প্রিয়। দুপুরে খাবারটা ডিম চপ থেকে হাঁসের মাংস। তারপর ৩০/৪০ মিনিটের একটা শান্তির বিশ্রাম শেষ করে, বের হয়ে পড়লাম নিজের কাজে। 

দ্যাখেন, আমি আগামি  দশ বছরে কত টাকা আয় করবো বা আগামি দশ বছরে কি কি খাবার কতটুকু খাবো— সব কিছুই এক আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। সকলের রিযিকের মালিক তিনিই। কারো রিযিক কমানো-বাড়ানো বা জুতসই করা সবই তাঁর এখতিয়ার। সারা দুনিয়ার মানুষ মিলেও যদি আপনার বা আমার রিযিক বন্ধ করতে চায় কিন্তু আল্লাহ না চাইলে কেউ পারবে না আবার আল্লাহ রিযিক দিতে না চাইলে সারা দুনিয়ার মানুষ মিলেও আপনাকে বা আমাকে এক লোকমা খাবার খাওয়াতে পারবে না। তিনি আমাদের জন্য যতটুকু নির্ধারণ করে রেখেছেন, ঠিক ততটুকুই কেবল আমরা ভোগ করতে পারি বা পারব। খুব স্মুথলী।

কুরআনের অনেক সূরায় রিযিক সম্পর্কে বলা 
হয়েছে—

>>আল্লাহ পাক উত্তম রিযিকদাতা। (সুরা জুমা : ১১)। 

>>নিশ্চয় আল্লাহ পাকই রিযিকদাতা। (সুরা জারিয়াত : ৫৮)। 

>>পৃথিবীতে বিচরণকারী প্রত্যেকটি প্রাণীর জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহ পাক নিজেই গ্রহণ করেছেন। (সুরা হুদ : ৬)। 

>>আল্লাহ পাকই তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা রিযিক বাড়িয়ে দেন এবং যাকে ইচ্ছা তাঁর রিযিক সীমিত করেন। নিশ্চয় আল্লাহ পাক সব বিষয়ে সম্পূর্ণ অবগত। (সুরা আনকাবুত : ৬২)।

-------------------------------------------

আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই আমাদের হায়াত-মউতের মালিক। তিনিই আমাদের রিযিকদাতা। শুধু রিযিকদাতা নয়; উত্তম রিযিকদাতা। এবং তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ পরিকল্পনাকারি। জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে তিনি আছেন, শুধু কি আছেন?—সবটুকু দিয়ে আছেন। এযাবৎ আমার সাথে যা যা ঘটেছে সবকিছুই ভালো ঘটেছে ; বরঞ্চ বলতে হয়—'সর্বোচ্চ ভালোটাই' ঘটেছে। 
আলহামদুলিল্লাহ। মাআসসালাম। 

আঠারো  | এগারো |

শনিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২১

প্রতিটা মায়ের মৃত্যুর সংবাদ—
আমার মায়ের মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। 

২৩/১০/২১

শুক্রবার, ২২ অক্টোবর, ২০২১

সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১

বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১

আমি নির্বাক চোখে দেখতাম—
আপনার গাল বেয়ে নিঃশব্দে গড়িয়ে পড়া, দু-ফোঁটা চোখের জল।
দেখতাম— 
জায়নামাজে আপনার পবিত্র স্নান! 

২৪/০৯/২১

মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

আব্বা,

আমার জীবনের কাব্যগ্রন্থ।

শ্যাওলা পড়া খসখসে পাতার,

খায়েশ-হীন তুলতুলে হরফ।


আম্মা,

আমার অরচিত শ্রেষ্ঠ কবিতা। 


২১/০৯/২১

রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

প্রত্যেকেরই 'যন্ত্রণা' থাকে, কারো কারো 'চিরযন্ত্রণা' থাকে।

১২/০৯/২০২১

রবিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

নিজেকে বাচিয়ে রাখার জন্য, যান্ত্রিক এই কোলাহল থেকে মাঝেমধ্যে একটু নিরালা-যাপনে যেতে হয়। সব কিছু ছেড়েছুড়ে একেবারে নিজের কাছাকাছি থাকতে হয়। 

আমার কাছে এই উদযাপনটি মহাসুখের।
আমার কাছে এই উদযাপনটি আমোদ-ফুর্তির। 

নিয়মের বেড়াজালে আটকে যাওয়া আমি, আমাকে মিস করছিলাম খুব। তাই বিগত কিছুসময়, কাজ-পড়াশোনা, ইতিহাস-দর্শন, আলোচনা-সমালোচনা, লেখালেখি সমস্ত কিছু থেকে দূরে ছিলাম। বলা যায়, এ্যা শর্ট ব্রেক ফর্ম এ্যাভরিথিং। 

আরামসে ভোর দেখেছি, মানুষের চোখ দেখেছি। পথেঘাটে থেমে মানুষের যাপিত জীবন দেখেছি। নির্জনে আসমানের সাথে আলাপ করেছি তবে নোট রাখি নি। সময়-অসময়ে প্রিয়দের প্রচণ্ড মিস করেছি। আমার 'আমি'কে খুব কাছ থেকে ফিল করেছি। যখন মন যেখানে ছুটার, ছুটেছি, বরাবর টাট্টুঘোড়ার মতোই ছুটেছি। এসব বেচে থাকারই রসদ। এই রসদ, চড়া দামেও কোথাও মিলবে না।  

আম্মা প্রায়ই বলতেন, নিজের সুখের উপকরণ 'নিজ' থেকেই সংগ্রহ করতে হয়।  


০৫/০৯/২১ 

রবিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২১

শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২১

কন্যার জ্বরে বাপের গতর পুড়ে। বুঁকে গন্ধ ফুঁটে। কলজে পুড়া গন্ধ। কন্যা, তাহাজ্জুদে বাপের পুড়া গন্ধ উপভোগ করে প্রাণভরে।
ভাবে, এমন পুড়া তো কন্যারও বাপের অসুখে পুড়ে। 

গত দুইদিন ধরে অসুখে, নির্ঘুমে দিনাতিপাত করছি।  মস্তিষ্ক চুপ হয়ে আছে। স্বাদের কানাকড়িও জিহ্বায় পাচ্ছিনা। মজার বিষয় কি, জ্বরে সব ফলকে আমার 'আমলকি-আমলকি' মনে হয়। নিখাদ তিতা। 

আসর ওয়াক্ত।  বিছানা ছেড়ে  কিছুক্ষন আকাশ দেখার ফুসরত হলো। অসুস্থ অবস্থায় সারাক্ষণ বিছানায় শরীরকে ঝিঁইয়ে রাখা, অসুস্থতাকে আরো বাড়িয়ে দেয় বলে মনে হচ্ছে। তার-উপর আকাশ না দেখার বেদনা। আদ্যোপান্ত, অসুখ আমার কাছে অসুখই।  

আধশোয়া হয়ে ভাবছি, যদি জানালা ঘেসে আকাশ ছোঁয়া যেতো, তবে ছুঁয়ে দিতাম। আকাশও তার সবটুকু নীলে আমায় ছুঁয়ে দিত। আলগোছে চোখ বুঝতাম, আকাশ আমার জ্বর ভালো করে দিতো। 

ও নীলচে আকাশ...........
আমার জ্বরটুকু ভালো করে দাও, 
তোমার সবটুকু দিয়ে। 

১৪/০৮/২১

রমজানে মী-টাইম, উই-টাইম বের করা খুব টাফ ছিলো। রমজানের একটা ব্যস্ততা তো থাকেই তার সাথে সাথে সবার অফিসের কাজের চাপ। সবমিলিয়ে আমরা একসাথে থাকলে...