খন্ডালাপ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
খন্ডালাপ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১ আগস্ট, ২০২১

আদু ভাই।




কিছু এপিটাফ নিঃসন্দেহে আপনাকে কাঁদাবে। প্রায়শই আমি গুগলে সার্চ করি "Epitaph picture"। কতশত লাইন চোখের সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। সেইসব লাইনের গল্পগুলো আমরা জানতে পারি না; কেবল ছন্দগুলোই পড়ি আর ভিতরে ভিতরে গল্পের প্লট সাজাই।

ঠিক তেমনই একটি এপিটাফ আদু মিয়ার। যার গল্পটা আমাদের জানা, তাই যন্ত্রণাটার বেশ গভীরে স্পর্শ করতে পারি।

বলছিলাম আদু ভাইয়ের কথা। মনে পড়ে ক্লাসের বারবার ফেলটুস ছেলেটাকে কত হাসির ছলে আদু ভাই, আদু ভাই বলে ডাকতেন? এই আদু ভাই গুলা একেকটা ধৈর্যর পাহাড়।

‘আদু ভাই’ আবুল মনসুরের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি গল্প। এ গল্পে সমন্বয় ঘটেছে হাস্য ও করুণ রসের। কোনো মহলকে খোঁচা দেওয়া বা আক্রমণ নয়, একান্তই নির্মল হাস্যরস সৃজন এ গল্পের মূল উদ্দেশ্য। আদু ভাইয়ের নির্মম পরিণতি গভীরভাবে সিক্ত করেছে, কি স্নিগ্ধ করুণ হাস্যরস।

ক্লাস সেভেন পাশ করতে করতে আদু ভাই তরুন থেকে যুবক হলেন; সময়ের নিয়মে বুড়ো হলেন।
হাল ছাড়েননি তবুও। শেষসময়ে দিনরাত পরিশ্রমে কাহিল হয়ে পড়লেন। এইবার পাশ করতেই হবে। ডো অর ডাই। দিনরাত পড়াশোনা, বৃদ্ধবয়সে শরীর যে মানে না। অসুস্থ আদু ভাই বিছানায় শুয়েই পরীক্ষা দিলেন। আদু ভাই পাশ করল।
আদু ভাই ছেলেকে নির্দেশ দিলো আমার জন্য "প্রমোশনের উৎসব" আয়োজন কর। আদু ভাই নিজ হাতে দাওয়াতনামা লিখলেন। বিধাতার কি চমক! আদু ভাইয়ের প্রমোশনের উৎসবেই হলো, আদু ভাইয়ের জানাযার আয়োজন।

রবীন্দ্রনাথের সুলেখা কালি।

একটা গল্প বলি। রবীন্দ্রনাথের। গল্পটা কালি প্রসঙ্গে।



একবার 'সুলেখা' নামের একটি কালির কোম্পানি প্রচারণার জন্য বিজ্ঞাপন বানাবে বলে ঠিক করে। এখন কালি প্রসঙ্গে বিজ্ঞাপন কে লিখে দিবে? হাত পাতা হলো কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে।

কবি লিখলেন,
"সুলেখা কালি।
এই কালি কলঙ্কের চেয়েও কালো।"

অদ্ভুত সুন্দর বিজ্ঞাপন না? মাত্র এই কটি কথা। শব্দ সংখ্যা পাঁচ। বিজ্ঞাপনের ভাষা এর চেয়ে সংক্ষিপ্ত,আকর্ষণীয়, বুদ্ধিদীপ্ত আর কি হতে পারে। রবীন্দ্রনাথই প্রথম বাংলায় বিজ্ঞাপনের ভাষা তৈরি করেছিলেন। তার ভাষা কতটা সংক্ষিপ্ত আর অর্থবহ হতে পারে তাও তিনিই শিখিয়েছিলেন। আজও সেই ধারা অব্যাহত আছে। শুধু নেই সেই কালি। যে কালির বিজ্ঞাপনের মডেল ছিলেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ।

নোট: ছবিটি অনলাইন থেকে কুড়িয়ে পাওয়া।

রমজানে মী-টাইম, উই-টাইম বের করা খুব টাফ ছিলো। রমজানের একটা ব্যস্ততা তো থাকেই তার সাথে সাথে সবার অফিসের কাজের চাপ। সবমিলিয়ে আমরা একসাথে থাকলে...