পাঠ প্রতিক্রিয়া লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পাঠ প্রতিক্রিয়া লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২১

বই: বিশ্বনবী। 
লেখক: গোলাম মোস্তফা।
প্রকাশনী: আহমদ পাবলিশিং হাউস।
প্রকাশক: মেজবাহউদ্দীন আহমদ।
প্রচ্ছদ: আমানউল্লাহ।
বর্ণবিন্যাস: ইয়াশা কম্পিউটার।
প্রথম সংস্করণ: অক্টোবর ১৯৪২
মুদ্রিত মূল্য: ৪০০ টাকা মাত্র
পৃষ্ঠা: ৪৭২


_______________________________

একই জীবন, একই কাহিনী, একই চিন্তা, একই কর্মধারা। সে একই কথা—বহুমুখে, বহুজনে, বহুশতাব্দী ধরে বাতাসে-বাতাসে ফিরছে, তবু যেন অফুরান—যেন কিছু লেখা হলো আর অলিখিত রয়ে গেল ঢের। কিছু বলা হলো আর অনেক কিছুই হয়নি বলা। এ চর্চাক্ষেত্র বারবার কেন জানি অপূর্ণ রয়ে যায়। এ যেন রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্পের মত শেষ হইয়াও হইলো না শেষ—

এ যাবৎ অবধি— মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে অসংখ্য জীবনীগ্রন্থ লেখা হয়েছে। একেবারে প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে এই পর্যন্ত বহুলেখক, সাহিত্যবিশারদ, গবেষক এবং অনেক কবিদের হাতে হয়েছে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহান জীবনের চর্চা। এই চর্চা কখনো হয়েছে আরবী ভাষায় আবার কখনো অনারব ভাষায়ও। উর্দু ভাষায়, ফার্সি ভাষায়, আরবি ভাষায় মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনীগ্রন্থের অভাব নেই। তবে সেই তুলনায় আমাদের বাংলা ভাষায় এর ব্যাপকতা খুবই কম। 

বাংলা সাহিত্যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে প্রথম গ্রন্থ রচনা করেন শেখ আবদুর রহীম। তারপর তাঁর সিরাত নিয়ে রচনা করার কাতারে এসেছে আরো বহুনাম, আরো বহুসাহিত্যিক। তারমধ্য কবি 'গোলাম মোস্তফা' একজন। তার সৃষ্টি 'বিশ্বনবী'। তাঁর  সীরাত সাহিত্যের এই 'সৃষ্টির' পরতে পরতে শিহরণ ও ছত্রে ছত্রে সাহিত্যরসের হিমশীতল সমীরণ। ভাষার মাধুর্য, মুগ্ধকর বর্ণনা, সুনিপুণ উপস্থাপনা, মননশীল শৈলী ও চিত্রায়ন—গ্রন্থটিকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

আমার মনে পড়ে, ছেলেবেলায় কবি 'গোলাম মোস্তফা'র প্রার্থনা কবিতা দিয়ে তাঁর সাথে আমার প্রথম পরিচয়ের কথা।  
কবিতায় তিনি বলেছেন—
"দ্যুলোক-ভূলোক সবারে ছাড়িয়া
তোমারি চরণে পড়ি লুটাইয়া
তোমারি সকাশে যাচি হে শকতি
তোমারি করুণাকামী"
সেই ছেলেবেলায়—সেই প্রাথমিকে, কি নিদারুণ শব্দে তিনি আমাদের রবকে চিনিয়েছেন।
প্রার্থনা কবিতা দিয়ে শুরু হলেও তারপর গোলাম মোস্তাফার সৃষ্টির সবকিছুই কমবেশি পড়ার চেষ্টা করেছি। সাম্প্রতিক সময়ে পড়লাম তাঁর রচিত জীবনীগ্রন্থ 'বিশ্বনবী'। আজ সেই গ্রন্থটি নিয়েই আলাপ করবো, ইনশাআল্লাহ। 

১৯৪২ সালে চুঁচুড়া থেকে কবি গোলাম মোস্তফা রচিত ‘বিশ্বনবী’ প্রকাশিত হয়। গোলাম মোস্তফা (জন্ম: ১৮৯৭ - মৃত্যু: ১৩ অক্টোবর ১৯৬৪), একজন বাঙালি লেখক এবং কবি। তাঁর কাব্যের মূল বিষয় ছিল ইসলাম ও প্রেম। মুসলিম জাগরণের অগ্রদূত কবি গোলাম মোস্তফার অবদান বাংলা সাহিত্যে এক বিরল দৃষ্টান্ত। তাঁর রচিত ‘বিশ্বনবী’ একটি আশ্চর্য রকমের সফল সৃষ্টি। এই অমর গ্রন্থখানি গদ্যে রচিত হলেও সে গদ্যও—কবিতার মত ছন্দময় এবং মধুর। গ্রন্থখানা বিশ্বনবী হয়রত মুহম্মদ এর একটি সার্থক জীবন চরিত। গ্রন্থটিতে হৃদয়ের আবেগ, আন্তরিক অনুভূতি যে ভাবে বর্ণিত হয়েছে তার তুলনা আমাদের বাংলা সাহিত্যে নিতান্তই বিরল।
আমি মনে করি, এই বইটাকে শুধু একটা জীবনীগ্রন্থ বললে ভুল হলা হবে। কারন, এর দার্শনিক বিবৃতিকে অস্বীকার করবার জো নেই। নবীজীর জীবনের বিভিন্ন দিক পয়েন্ট বাই পয়েন্ট ধরে আমার মনে হয়না আগে কেউ এভাবে আলোচনা করেছেন। বইটির প্রথম খন্ডে মোট ৫৮টি ও দ্বিতীয় খন্ডে মোট ১৪ টি পরিচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে। প্রতিটি পরিচ্ছেদের আলোচনা অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত, হৃদয়গ্রাহী ও প্রাঞ্জল। শব্দের সাথে শব্দের সখ্যতা, সাবলীল উপস্থাপন, বাক্যালাপের সুনিপুণ গাঁথুনি—সব মিলিয়ে আদ্যপ্রান্ত গ্রন্থটিই আমার অন্তরের খুব কাছের। আমার প্রিয় পাঠের সর্বোচ্চ চূড়ায় থাকবে এই গ্রন্থটির নাম।
তবে মনে রাখতে হবে, 'বিশ্বনবী' নিঃসন্দেহে একটি গবেষণাগ্রন্থ, সর্বসাধারণের বোধগম্যও। এর কোন আলোচনা যুক্তির ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েনি, আবার আবেগের বশবর্তী হয়ে কোন অযৌক্তিক কিছুকে প্রশ্রয়ও দেয়া হয়নি। 

গ্রন্থটি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত অথচ মোটাদাগে একটা ধারণা পেতে পারেন—সেই সুবাদে নিম্নে সূচিপত্রটি উল্লেখ করলাম। 

সূচিপত্র—

প্রথম খণ্ড
* আমিনার কোলে
* কোন আলোকে
* প্রতিশ্রুতি পয়গম্বর
* বংশ পরিচয়
* নামকরণ
* সমসাময়িক পৃথিবী
* শিশুনবী
* প্রকৃতির কোলে
* বক্ষ-বিদারণ
* শিশুনবী এতিম হইলেন
* সিরিয়া ভ্রমণ
* আল-আমিন
* শাদী মুবারক
* কাবাগৃহের সংস্কার
* গৃহীর বেশে
* সত্যের প্রথম প্রকাশ
* সত্যের স্বরূপ
* সত্য প্রচারের আদেশ
* সত্যের প্রথম প্রচার
* প্রথম তিন বৎসর
* সংঘর্ষের সূচনা
* উৎপীড়ন
* এ আগুন ছড়িয়ে গেল সবখানে
* প্রতিক্রিয়া আরম্ভ হইল
* সাহারাতে ‘ফুটলরে ফুল’
* অন্তরীণ বেশে
* সর্বহারা
* তায়েফ গমন
* আল মি’রাজ
* অন্ধকারের অন্তরালে
* হিযরতের পূর্বাভাস
* শিষ্যদিগের প্রস্থান
* হিযরত
* আল-মদিনায়
* প্রেমের বন্ধন
* ইসলামিক রাষ্ট্র রচনা
* মদিনার আকাশে কালো মেঘ
* বদর-যুদ্ধ
* বদর-যুদ্ধের পরে
* ওহদ যুদ্ধ
* জয় না পরাজয়
* ওহদ যুদ্ধের শেষে
* চতুর্থ ও পঞ্চম হিযরীর কয়েকটি ঘটনা
* আয়েশার চরিত্রে কলঙ্ক-দান
* খন্দক যুদ্ধ
* ষষ্ঠ হিযরীর কয়েকটি ঘটনা
* হোদায়বিয়ার সন্ধি
* দিকে দিকে গেল আহবান
* খায়বার বিজয়
* মুলতবী হজ
* মুতা-অভিযান
* মক্কা বিজয়
* মক্কা-বিজয়ের পরে
* হোনায়েন ও তায়েফ অভিযান
* তাবুক অভিযান ও অন্যান্য ঘটনা
* বিদায় হজ
* পরপারের আহবান
* শেষ কথা

দ্বিতীয় খণ্ড
* পূ্র্বাভাষ
* হযরত মুহাম্মদ জন্ম তারিখ কবে
* কাবা শরীফ কখন নির্মিত হইয়াছিল
* ইসলাম ও পৌত্তলিকতা
* ইসলাম ও মো’জেজা
* স্বাভাবিক ও অস্বাভাবিক
* বিজ্ঞান আজ কোন পথে
* ইসলাম ও নূতন বিজ্ঞান
* মি’রাজ
* থিওসফী ও মি’রাজ
* ‘মুহম্মদ’ ও ‘আহমদ’ নাম কি সার্থক হইয়াছে
* মুহম্মদ ‘মুহম্মদ’ ছিলেন কিনা
* হযরতের বহু বিবাহের তাৎপর্য
* মুহম্মদ ‘আহ্‌মদ’ ছিলেন কি-না

সত্যি বলতে—মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তাঁর অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাই বইটিকে অসাধারণ জনপ্রিয় করে তুলেছে। 'বিশ্বনবী' সম্বন্ধে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর অভিমত— “মৌলভী গোলাম মোস্তফা কবিররূপে সুপরিচিত। তাঁহার নব অবদান ‘বিশ্বনবী'। বলা বাহুল্য, ইহা ‘বিশ্বনবী হযরত মুহম্মদের (সঃ) একটি সুচিন্তিত প্রায় ৫০০ পৃষ্ঠাব্যাপী জীবনচরিত। এই গ্রন্থকার আঁ-হযরত সম্বন্ধে তাঁহার দীর্ঘকালের গভীর চিন্তা ও গবেষণার সুষ্ঠু পরিচয় দিয়াছেন। আমরা এই পুস্তকখানিতে গোলাম মোস্তফা সাহেবকে একজন মোস্তফা-ভক্ত দার্শনিক ও ভাবুকরূপে পাইয়া বিস্মিত ও মুগ্ধ হইয়াছি । ভাষা, তথ্য ও দার্শনিকতার দিক হইতে গ্রন্থখানি অতুলনীয় হইয়াছে।”
অন্যদিকে, শ‍্রী মনোজ বসু বলেছেন— “মহানবীর পরমাশ্চর্য বৃত্তান্ত লেখার সময় আপনার কবি ধর্ম সর্বদা আপনাকে গণ্ডিসংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে রেখেছে। আমি ও আমার মত আরও অনেকে ধর্মে মুসলমান না হয়েও হযরতকে একান্ত আপনার বলে অনুভব করতে পেরেছি। ভাষা, কবিত্বঝঙ্কার ও ভাব—লালিত‍্যে বইটি অপরূপ মহিমা লাভ করেছে।”
আবার, ফুরফুরা শরীফের পীর মাওলানা আবু নসর মুহম্মদ বলেন—“যাঁহারা বাংলা ভাষায় হযরত রসূলে করীমের (সঃ) সঠিক জীবনী ও সত‍্যরূপ জানিতে চান, তাহাদিগের ‘বিশ্বনবী’ পাঠ করিতে অনুরোধ করি।"

কবি বইটি গদ্য দিয়ে শুরু করলেও শেষ করছেন পদ্য দিয়েই। শেষ পৃষ্ঠায় তিনি লিখেছেন—

তুমি যে নূরের রবি
নিখিলের ধ্যানের ছবি
তুমি না এলে দুনিয়ায়
আঁধারে ডুবিত সবি।
নবী না হয় দুনিয়ায়
না হয়ে ফেরেশতা খোদার
হয়েছি উম্মত তোমার
তার তরে শোকর হাজার বার!

মরুভাস্কর নবীর প্রতি লেখকের ভক্তির সুরভি দেখে আমার কাছে মনে হয়েছে—
‘বিশ্বনবী’ রচনায় কবি গোলাম মোস্তফা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি যে শ্রদ্ধা, ভালবাসা, হৃদয়াবেগ, অনুরাগ, ভক্তি ও নবীপ্রেমের আন্তরিক ভাবোচ্ছ্বাসের তরঙ্গময় প্রকাশ ঘটিয়েছেন; তার ফলে, কবির গোলাম মোস্তফা (নবীর ভৃত্য/গোলাম) নামটি যথার্থ ও স্বার্থক হয়েছে। 

গ্রন্থটিতে নেতিবাচক কিছু বিষয় থাকলেও আজকের আলোচনায় আর টানছি না। তবে, উত্তরসমেত একটি প্রশ্ন নিম্নে আপনাদের নিকট পেশ করছি। 
প্রথমত বলি, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কেনো জানতে হবে আর জানার জন্য গোলাম মোস্তাফার 'বিশ্বনবী' বইটিই বা কেন পড়তে হবে? 
উত্তর: দুনিয়াতে আমাদের জীবনযাপনে, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনের প্রতিটি অঙ্গনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদের জন্য উত্তম ও অনুপম আদর্শ। এই কথাটি অস্বীকার করবার কোনো উপায় নেই। এ কারণে এমনিতেই তাঁর(মুহাম্মদ) জীবনী পাঠ করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য একান্ত কর্তব্য। 
অবশ্যপাঠ্য এই জীবনীগ্রন্থ যদি রচিত হয় সাহিত্যসমৃদ্ধ ভাবাবেগপূর্ণ ভাষায়, তা হলে তা হয়ে উঠে সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য বাড়তি আনন্দ ও খুশির কারণ। বক্ষ্যমাণ বইটির সাহিত্যমান সম্পর্কে কিঞ্চিত ধারণা পেতে বাংলা একাডেমীর সাবেক পরিচালক সৈয়দ আলী আহসানের মন্তব্যটি অবশ্যই প্রণিধানযোগ্য। বইটির মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি কি বলছেন; পড়ুন—“বাংলা সীরৎ গ্রন্থগুলির মধ্যে কবি গোলাম মোস্তফার বিশ্বনবী যেমন জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে অন্য কোনোটির ভাগ্যে তা হয় নি। এর ভাব যেমন উচ্চস্তরের, ভাষাও তেমনি প্রাঞ্জল, গতিশীল ও ওজস্বিনী। কবি গোলাম মুস্তফা একাধারে সুনিপুণ বাকশিল্পী, কবি ও ভক্ত। তাই তার আন্তরিকতাপূর্ণ ভক্তির ভাবোচ্ছ্বাস ও কাব্যের লালিত্য গ্রন্থটিকে সুষমামণ্ডিত করেছে। তার ভাব ও ভাষায় ভক্তিপ্রবণ বাঙালি অন্তরের মর্মকথাই কাব্যের ললিত রচনায় প্রতিধ্বনিত হয়েছে। ভক্ত প্রেমিকের মধুঢালা রচনাবিন্যাস বইটিকে অসাধারণ জনপ্রিয়তার অধিকারী করেছে।”

গোলাম মোস্তাফার ‘বিশ্বনবী’র যে কোনো পাঠক সৈয়দ আলী আহসানের কথার সঙ্গে ঐক্যমত পোষণ করবেন বলে আমার বিশ্বাস। তাই সাহিত্যরস আহরণ ও আস্বাদনে প্রয়াসী হবার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে নববী আদর্শের উজ্জীবন ঘটাতে আগ্রহী প্রতিটি ব্যক্তিকেই আমি মনোহর প্রচ্ছদ ও ঝকঝকে ছাপার কালজয়ী এই বইটি সংগ্রহ করে পাঠ করার জন্য বিনম্র পরামর্শ প্রদান করে বিদায় নিচ্ছি। আমার বিশ্বাস, এ বিশাল গদ্য কাব্যটি আরও সুদীর্ঘকাল বাঙালি পাঠককে বিমুগ্ধ করে রাখবে—যেমনভাবে বিগতদিনগুলো আমাদের রেখেছে। পরিশেষে এককথায় বলতে পারি— 'বিশ্বনবী' আমার 'সুখকর' পাঠের মধ্যে একটি। 

রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

বই: বিস্রস্ত জর্নাল। লেখক: আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।

জীবনের একটা পর্যায়ে এসে তিনি তাঁর দিনলিপিতে বলছেন- 

লিখতে শুরু করলাম ছিটেফোঁটা। অন্তত কয়েকটা বছর বেঁচে থাকা ভীষণ প্রয়োজন।  মস্তিষ্কের খাঁজে খাঁজে লেলিহান আগুনের মতো অজস্র শব্দের গনগনানি।  অন্তত তিন-চার হাজার পৃষ্ঠা না লিখতে পারলে কিছুই জানিয়ে যাওয়া হবে না। 
- ৭.১১.৮৭



বই: বিস্রস্ত জর্নাল। 
লেখক: আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।
প্রকাশক: মফিদুল হক, সাহিত্য প্রকাশ। 
ক্যাটাগরি: জীবনী ও স্মৃতিকথা।  

**
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। তিনি একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজসংস্কারক। তার জীবনের উল্লেখযোগ্য কীর্তি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। যা চল্লিশ বছরেরও বেশি ধরে  ‘আলোকিত মানুষ’ তৈরি করে যাচ্ছে। এই মানুষটাকে আমি টেলিভিশনের উপস্থাপক হিসেবে প্রথম পাঠ করি। তারপর, তাঁর আত্মজীবনী 'আমার বোকা শৈশব' পড়ি। তারপর একে একে ভাঙো দুর্দশার চক্র, আসীমের ভেলা, সংগঠন ও বাঙালি।  
এভাবেই লেখকের সাথে আমার পাঠের যাত্রা চলছে......... 

গত ১৩ দিনে শেষ করা বইটির নাম বিস্রস্ত জর্নাল। নাম-সাকিনহীন টুকরোটাকরা লেখা। তাঁর ব্যস্ত জীবনে নিয়মের বাইরে, মাঝেমধ্যে যে অপ্রত্যাশিত অবসর আসতো, সেখানের দুয়েক চিলতে মুহূর্ত নিয়েই সাজানো হয়েছে গোটা বইটি। পড়তে-পড়তে থমকে যেতে হয়েছে কয়েকবার। নিরালা অবসরে ভাবতে হয়েছে শূন্যতা'কে। এটাই টেক্সটের দারুণ পাওয়ার। 

১৮.০১.১৯৮৪ সালে এই জর্নালের যাত্রা শুরু। সমাপ্ত ১৯৯৪ সালে। প্রতিটি সরলবাক্যের যাত্রী আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ গড়গড় করে বলে যাচ্ছেন তাঁর জীবনের নানা দিক, উত্থান-পতন। তাঁর এই যাত্রার সঙ্গী আমিও। বইটি পাঠের সময়, প্রতিটি পাঠক এই যাত্রার সঙ্গী হবে নিঃসন্দেহে। 

বহুরূপী মানুষের কথা, তার ভেতরকার সৌন্দর্য আর কুৎসিতের বড়াই কিংবা লজ্জার সোজাসাপটা  স্বীকারোক্তি। অন্তর্গত দহন ও সত্যান্বেষণ। অগোছালো সংসার গুছিয়ে নেবার তাগিদ কিংবা ভালোবাসা নিয়ে তাঁর সুন্দর ভাবনা, সবেতেই ঠাসা।

আচমকা জন্ম-মৃত্যু কিংবা প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির অনুযোগের সারিতে দাঁড়িয়ে ভাবছেন দেশ, সমাজ আর সাহিত্যের অলিগলির ব্যাপারে। আবার মেয়ের 'আব্বু আসি' এমন বিদায়ও নাড়া দিচ্ছেন তাঁকে। 

কখনো শিক্ষক, কখনো দেশপ্রেমিক, কখনো সাধারণের চেয়ে সাধারণ আবার কখনো অমায়িক পিতা হিসাবে পাতায় পাতায় স্পষ্ট দেখতে পােলাম তাঁকে।  
আঁকছেন নিজের অভিমান, প্রেম, অনূভূতি, দায়িত্বের কষ্ট, শ্রম আর সাফল্যের উত্তেজনা। জগৎসংসার, সবই একটা জীবন-যাপন, সবই কেবল আমোদে-আল্লাদে বেঁচে থাকা। 

গোটা জর্নালটি এলোমেলো, সংক্ষিপ্ত তবে নিদারুণ গভীর, পাবেন জীবনের চরম সব স্বীকারোক্তি।  

**
জর্নাল থেকে প্রিয় কিছু টুকরো লেখা উল্লেখ করলাম। 

▪️বুদ্ধিমানেরা তর্ক করে, প্রতিভাবানেরা পৌঁছে যায়। (১৩.৩.৮৪) 

▪️কেন নিন্দা? কিসের জন্য? আমাদের ব্যক্তিগত অক্ষমতা? ঈর্ষা? অসাফল্য? শক্তিহীনতা?  অন্যের সফলতাকে সহ্য করতে পারার স্নায়বিক অক্ষমতা?  ব্যক্তিগত ব্যর্থতার বিকাশ-বিনাশী সহিংস প্রত্যাঘাত? (২৭.৬.৮৫)

▪️আজকের জন্য যা মর্মান্তিক, কালকের জন্যে তাই সর্বোচ্চ সতর্কতা। (২৮.১২.৮৬)

▪️বাঙালির স্বপ্ন গণতন্ত্র, কিন্তু সে স্বস্তি বোধ করে একনায়কতন্ত্রে। (৩০.৯.৮৮)

▪️যার দানের কথা অন্যে জানে, সে দেয় না, নেয়। (২৭৫নং)

▪️আজকের বাংলাদেশে বড় মানুষ তারাই, যারা মাঝে মাঝে বাংলাদেশে আসে। (২৭৬নং)

**
বি.দ্র: বিস্রস্ত জর্নাল, কেবল জর্নাল-ই। ভুল করেও কেউ উপন্যাস ভাববেন না। বইটিতে এই ব্যাপারে লেখকের চমৎকার একটি বর্ণনা আছে।

রবিবার, ১ আগস্ট, ২০২১

বই: বাংলা সাহিত্যে গাউসে পাক প্রসঙ্গ। লেখক: মোহাম্মদ আবু সাঈদ।

কে গাউছে পাক? 
কে মুহিউদ্দীন?
কে সুলতানুল আউলিয়া?
কে গাউছুল আযম?

এই প্রশ্নের উত্তর জানে না এমন লোক খুঁজে পাওয়া আমাদের জন্য দুষ্কর।  

তিনি হলেন হযরত শাইখ আব্দুল কাদির আল-জিলানী আল-হাসানী ওয়াল-হুসাইনী। 
সংকলনকারীর সাথে একমত পোষণ করে বলতে পারি 'তাসাউফ নিয়ে পড়াশোনা করছেন বা সুফিজম নিয়ে ধারণা রাখেন, তারা ছাড়াও সাধারণ মুসলমানদের কাছেও গাউসুল আযম পরিচিত এবং ঘনিষ্ঠ। 

হযরত গাউছুল আযম কেবলমাত্র একজন শীর্ষস্থানীয় সুফিসাধকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একাধারে আইনজ্ঞ, শাস্ত্রবিধ, ধর্মবেত্তা, দার্শনিক অসাধারণ বাগ্মী ও সুসাহিত্যিক। 




"বাংলা সাহিত্যে গাউছে পাক প্রসঙ্গ" তরুণ গবেষক মোহাম্মদ আবু সাঈদের দ্বিতীয় সংকলন এটি। আমরা জানি জলের তলায় ডুব দিয়ে যারা কাজ করে তাদের ডুবুরী বলা হয়। 
সিন্ধু সেঁচে মুক্তা আনুক আর নাইবা আনুক একজন ডুবুরী কি পরিমাণ কষ্ট করে এবং কি পরিমাণ আত্মত্যাগ করে সেটা প্রত্যক্ষ সাক্ষী না হলে হয়তো বিশ্বাস করা যাবে না। এই কথাগুলো একজন গবেষকের জন্যও বিবেচ্য বলে বোধ করি। 
বইটির প্রতিটি পাতা স্পর্শ করলে বুঝতে পারবেন এখানে গবেষক মোটোমুটি ডুবুরী হিসেবেই জলে নেমেছেন। তবে সিন্ধু সেঁচে কতটুকু মুক্তা কুড়িয়ে আনতে পেরেছেন সেটা একজন বিচক্ষণ পাঠকই উত্তর দিতে পারবেন।  

একজন পাঠকের কাছে বইয়ের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ।  ভূমিকাটি গোটা বইয়ের একটি প্রতিচ্ছবি। বেশ সময় নিয়ে পড়েছি। যা মনে হলো মোটাদাগে কয়েকটা বিষয় তুলে আনতে চেয়েছেন গবেষক। কিছু ইঙ্গিত দিয়েছেন যা একটা "গ্রুপ অফ মেস্বার" দের জন্য তোজোদীপ্ত মেসেজ হতে পারে। 

যেমন-
. বাংলায় আদর্শবান ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তি হিসেবে গাউছে পাকের চর্চা হয়েছে খুব কম। 

.  চর্চা যাই হয়েছে সেটিও ভক্তিবাদে পর্যবসিত,  আর্দশ নিয়ে কোনো কাজ নেই। 

. সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে গাউসে পাককে পাঠ করা। 

. এক জুলুমবিরোধী গাউছে পাক। 

ভুমিকাটি পড়তে গিয়ে একটা ঘটনা মনে পড়ল। 
কোথাও একটা পড়েছিলাম ঘটনাটির সূত্র মনে নেই। 
নব্বই দশকের শেষের দিকে, শিল্পী আব্বাসউদ্দিনের যােগ্য উত্তরসূরী জনাব আব্বাসী কোনো এক সেমিনারে সঙ্গীত তাসাউফের বিষয়ে কিছু বলছিলেন। বলতে বলতে বলেন, তােমরা যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ো তাদের উচিৎ আমাদের সূফিসাধকদের মূল্যায়ন করা। আমি ইরাকে গিয়ে এক টেক্সি ড্রাইভারকে, হজরত আব্দুল কাদের জিলানীর মাজারে নিয়ে যেতে বললাম, সে তা চিনে না বলে উত্তর দিলো। আমি নাছােড় বান্দা হয়ে এক বয়স্ক ড্রাইভারের কাছে যাই এবং তাকে জিঙ্গেস করি, তখন ঐ বৃদ্ধ ড্রাইভার বলেন -গিলানি গিলানি হাঁ চিন্তে পেরেছি। আমাদের যুব সমাজ গিলানিকে ভুলার কারণেই আজকে তাদের অধঃপতন হয়েছে। জনাব আব্বাসী বলেন 'হীনমন্যতার কোন বালাই নেই, আমিও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সূফীদের সাথে সম্পর্কের কারণে আমার কোথাও মর্যাদার কমতি হয়নি বরং বেড়েছে'।  

আজকে ছাত্রদের মধ্যে 'আর্দশিক গাউসে পাক' এর চর্চা নেই। তাঁর রুহানিয়াত বিশেষ ব্যক্তিত্ব নিয়ে যত গুনগান, প্রশস্তি হয়, তার ছিটেফোঁটাও 'একজন আদর্শবাদ মানুষ' হিসেবে হয়না। 

জুলুম, সহিংসতাপূর্ণ দুনিয়ার বিরুদ্ধে মজলুমদের যে লড়াই কি হতে পারে তার ইশারা কি গাউসে পাক দেন নাই?  
বর্তমানে জুলমভরা পৃথিবী ও সহিংসতাপূর্ণ সমাজে একজন মজলুমের আইডল কি গাউসে পাক হতে পারে না? 
এইসব জানাতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ে, কলেজে, স্কুলে। মাঠে-ময়দানে। তুলে ধরতে হবে বই পুস্তকে।

যুগ এবং সময় কোন গাউসে পাককে চাইছে, সেই গাউসে পাককে আবিষ্কার করতে হবে। তবেই চর্চার ফল ভোগ করা সম্ভব।

আধুনিক যুগের কায়কোবাদ, মোজাম্মেল হক, ফররুখরা কই?  যাদের হাত দিয়ে গাউছে পাক প্রবাহিত হবেন। 

বাংলা সাহিত্যর আধুনিক যুগে গাউসে পাককে নিয়ে খুব বেশি লেখা হয়নি তা স্পষ্ট। আর গবেষক বাংলা সাহিত্যে গাউছে পাকের চর্চাকে মুখ্য বিষয় করেই বইটি লিখেছেন। তাও সুস্পষ্ট। শুরুটা আলাওল দিয়ে হলেও হায়াত মামুদ, কায়কোবাদ, মোজাম্মেল হক, মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, ফররুখ আহমদ, রকীব শাহ, সুফিয়া কামাল, সাবির আহমেদ চৌধুরী,  মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ, আলাউদ্দিন আহমেদদের গাউসে পাক নিয়ে বিচরণ ছিলো অভাবনীয়।

পুরো বইটি পড়ার পর, আমি একজন পাঠক হিসেবে বলতে পারি, কায়কোবাদ, মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ এবং মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ উনারদেরকে সাথে নিয়ে গাউসে পাককে জানার প্রবল ইচ্ছা আপনার মধ্যে সৃষ্টি হবে, হবেই। ক্রমানুযায়ী সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ; 

. কায়কোবাদ : 
উনবিংশ শতাব্দীর বাঙালি মুসলমানের প্রধান পুরুষদের অন্যতম কবি কায়কোবাদ। তিনি সুফিমনাই ছিলেন ; জীবনের আয়ুষ্কাল শেষদিকে পীরের আদেশ আসে গাউছের রচনা নিয়ে কাজ করার। কায়কোবাদ অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে নাকচ হোন কিন্তু পীর বলেন- 'গাউছুল আযমের এই রচনাকার্য শেষ না হওয়া অবধি তোমার আয়ুষ্কাল শেষ হবে না'
পীরের আদেশে শুরু হলো নতুন যাত্রা। কি অসহনীয় পরিশ্রম করে গাউছে পাকের জীবনী রচনা করেছেন তা বুঝানো মুশকিল। 'ক্ষীণ দৃষ্টিশক্তি,  অসুস্থ দেহ, নিস্তেজ প্রাণ' এই নিয়েই শেষ করেন গাউছের জীবনী রচনা। গাউছে পাকের কাব্যজীবনী রচনা করার দায়িত্ব কবির অন্তিমলগ্নে জীবনে কতটা প্রভাব ফেলেছে এবং  তাঁর প্রতি কি গভীর প্রেম পুরো পাঠেই আন্দাজ করতে পারবেন। 

.মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ: 
পুরো বইটিতে সবকজনের মধ্যে তাঁকে একজন 'জাত গবেষক' হিসেবে মনে হলো ।  তিনি গাউছে পাককে নিয়ে সংক্ষিপ্ত জীবনী রচনা করেছেন কিন্তু তথ্য দিয়ে মুড়ানো ছিলো তার গবেষণা।  নজরকাড়বে সুনির্দিষ্ট তারিখ। বুঝা যায় মুহাম্মদ  শহিদুল্লাহ কতখানি গভীর চর্চায় মাতোয়ারা হয়েছিলেন। আর গবেষক তা খুব যত্নের সাথে উদ্ধার করেছেন। 

. মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ: 
আমার মতে পাঠক হিসেবে তাঁকে নিয়ে আফসোস এর শেষ নেই। কালগর্ভে হারিয়ে যাওয়া একজন। সঠিকভাবে পাঠকের দ্বারে কদর পাননি তিনি।  গাউছে পাককে নিয়ে তাঁর ' জীলান সূর্যের হাতছানি ' পড়লে বুঝতে পারবেন কি ছিলো তার কোমল উপস্থাপন, আর কত রুপময় ছিলো তার বলার ভঙ্গীমা। তবে আমাদের গবেষক মোহাম্মদ আবু সাঈদের মাধ্যমে জানতে পারবেন মোহাম্মদ মামুনুর রশীদের চর্চার সার-সংক্ষেপ।  
গাউছে পাকের দেহাবয়ব বর্ননা এতো শিল্পের মিশ্রনে পূর্বে কেউ করছে কি না আমার জানা নেই। 
তিনি লিখেন: "হজরত বড়পীর র. ছিলেন সৌম্যকান্তি সুদর্শন পুরুষ।  তাঁর শরীরের রং ছিলো উজ্জ্বল।  মধ্যমাকৃতির ছিলেন তিনি। বক্ষ ছিলাে প্রশস্ত। শরীর কৃশকায় হলেও তাঁর সমস্ত অবয়বে ছিল প্রখর ব্যক্তিত্ব্যঞ্জক অভিব্যক্তি। কণ্ঠস্বর গম্ভীর, সুস্পষ্ট ও সুমধুর। প্রশান্ত ললাট। ক্ষীণ ভ্রুরেখা সংলগ্ন। দাঁড়ি মােবারক অত্যন্ত ঘন।
স্বভাব গাম্ভীর্যমণ্ডিত। নীরবতা ও নির্জনতা ভালবাসতেন তিনি।”
কি চমৎকার বিশ্লেষণ। সাত-সমুদ্র তেরো নদী ভ্রমণে যে সুখ পাওয়া যায় তা হয়তো গাউছে পাক নিয়ে লেখা মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ এর উক্তিগুলোতে পাবেন। পুরো অংশটাই উজাড় করা হাওয়ার মতো মনে হবে। 

সাথে রয়েছে কাসিদায়ে গাউসিয়া: বাংলায় কাব্যানুবাদ। 

আমার মতে একজন 'গাউছে পাক' পাঠকের জন্য গোটা বইটাই সারপ্রাইজ। গবেষককে নিয়ে  সমালোচনা করার জায়গাটার ফ্লোর নেই। কারণ, শূন্যস্থানগুলো কেবল পূরণ হচ্ছে, তাকে সাধুবাদ জানানোটাই উত্তম বলে বোধ করি। আমি বিশ্বাস করি, গাউছে পাকের বিচরণ হাজার হাজার কেতাবে লিখলেও পাঠকের তৃপ্তি মজবে না, গবেষকের ও কালি ফুরাবে না। তবে মোহাম্মাদ আবু সাঈদ আপ্রাণ চেষ্টা করেছে "বাংলায় গাউছে পাক নিয়ে চর্চার সার-সংক্ষেপ" তুলে আনতে। গবেষকের চেষ্টাটা ডুবুরী সিন্ধু সেঁচে মুক্তা আনার মতোই। আমার মনে হয় আমাদের পাঠক সমাজ এই বিষয়ে মহৎ একটি ধারণা পাবে। পূর্বে, যা অন্তরচক্ষু দূরে থাক চর্মচক্ষুতেও ধরা পরে নি সেইসবও ধরা পড়বে।  

"বাংলা সাহিত্যে গাউছে পাক প্রসঙ্গ" বইটির সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ। নিশ্চিতভাবে এই সৃষ্টি পাঠকসমাজে কড়া নাড়বে।

রমজানে মী-টাইম, উই-টাইম বের করা খুব টাফ ছিলো। রমজানের একটা ব্যস্ততা তো থাকেই তার সাথে সাথে সবার অফিসের কাজের চাপ। সবমিলিয়ে আমরা একসাথে থাকলে...