গল্পের ঘর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গল্পের ঘর লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২২ অক্টোবর, ২০২১

কাজলের বয়ে বেড়ানো সুখ



কাজলের বয়ে বেড়ানো সুখ
-সালমন সালমা।

কোনো এক শীতের সকাল, যে শীত অন্যসব ঋতু থেকে আলাদা। যে সকাল অন্যসব সকাল থেকে আলাদা। কুয়াশার চাদরে মোড়ানো গোটাশহর যেনো নিশ্চুপ, হাড় শীতল করে প্রকৃতির পাখপাখালি, কর্মস্থলের যন্ত্রপাতিও যেনো ফ্রিজ হয়ে আছে। এ সময় এক ফালি রোদ সকলের কাছে বহুল প্রতীক্ষিত হয়ে ওঠে। শীতের সকালে মানুষের মাঝে এক অজানা অলসতা ভর করে। লেপ মুড়ি দিয়ে ঘুমিয়ে থাকাতেই যেন তখন স্বর্গীয় সুখ অনুভব হয়। কিন্তু জীবিকার তাগিদে, জীবন থেমে থাকে না, বেঁচে থাকার বাস্তবতা শীতকেও দূরে সরিয়ে দেয়। কম্বল নামিয়ে, আড়মোড়া ভেঙে উঠতেই হয় সবাইকে। নিজেকে তৈরি করে নিতে হয় কাজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। 


তদ্রূপ এমন এক শীতের সকাল। শনিবার। সদ্য কলেজ পড়ুয়া এক তরুন, কাজল।  আজ তার কলেজ ছুটি। তাই সকালে তার বাড়ির পাশের মামার টং দোকানে এসেছে চা খেতে। সকাল ৭ টার নাগাদ। কাজল, এসে দেখে মামা দোকান খুলছে মাত্র। 


কাজল: মামা আইজ এতো দেরি কেন? 

মামা: আর কইয়েন না যেই শীত পড়চে, বউ পোলাপানের কথা ভাইবা দোকানটা খুললাম। বয়েন মামা। 


কিছুক্ষণ পর মামা চা দিলো, 

কাজল চায়ে চুমুক দিতে দিতে খেয়াল করতে লাগল মামার দোকানের দক্ষিণ দিকে, সাদামাটা একটা ছেলে, এই বছর ১১ কিংবা ১২ এর মতো হবে।


কাজল দেখছে, 

সূর্যের বিদায় বেলার আলোতে কি পবিত্র ছোঁয়ায় ছেলেটির ঘুম ভাঙ্গছে। সে ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়ে দেখে সকাল হয়ে গেছে। তারপর সে তার ঘাসের বিছানা ছেড়ে উঠে। রাজার আবেশে, একটা বড়ো  গাছের পিঠে পিঠ ঠেকিয়ে হেলান দিয়ে বসে। কাজল ভাবছে সেটিই বোধহয় ছেলেটির থাকার জায়গা। 

ছেলেটি তার নিষ্পাপ চোখ দিয়ে এপাশ- ওপাশ তাকিয়ে চিন্তা করতে থাকে, সকাল তো হলো এখন কি খাবো? খাবার কোথাই'বা পাবো? রাতে খেতে না পারায় পেটে অসহ্য খিদে লেগেছে। 


কিছুক্ষণ পড়েই ছেলেটার নাকে একটা সুন্দর ঘ্রাণ আসছে। যে ঘ্রাণটা ভদ্র সমাজে খুব বাজে ঘ্রাণ বলে মনে হয়। কাজল অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখে, ছেলেটির মুখে এক বর্ণ হাসির ছোরা মিলছে। কাজল পাশ ফিরে দেখে ডাষ্টবিন থেকে একটা বাজে গন্ধ আসছে। যে গন্ধ কাজলেরও সহনীয়তার বাইরে। কিন্তু ছেলেটি দৌড়ে ডাস্টবিনটার পাশে এসে দাঁড়ায়, ভালো মন্দ কিছু ফেলে দেওয়া খাবার পাবে বলে। কিন্তু দুর্ভাগ্য  ডাষ্টবিনে খাবার মতো কিছুই পায়নি। কাজল বিষয়টা বুঝতে পারে। ছেলেটি গুটি গুটি পায়ে আবার সেই জায়গায় গিয়ে বসে। আকাশ জমিন ফেটে মন খারাপ করছে ছেলেটির চোখেমুখে।  


তারপর কাজল টং দোকান থেকে উঠে ধীরেসুস্থে  সেই ছেলেটার কাছে যায় আর ঘাসের উপর বাবু হয়ে বসে । ছেলেটি তখন ভয় ভয় চোখে তাকায় কাজলের দিকে।


কাজল ছেলেটিকে ডেকে বলে, কিরে কি নাম তোর? 

ছেলেটি বলে: হুম আমার নাম? কেন, আমার নাম দিয়া আপনের কি দরকার?


কাজল বলে, আমার একটা ভাই আছে ঠিক তোর মতো, তার নাম রাখব। তাই তোর নামটা জানতে চাইলাম। ভালো লাগলে তোর নামটাই রেখে দিবো।

ছেলেটা বলে, কি-যে কন না ভাই। আইচ্ছা যাক। আমার নাম হইলো জিহান। আগে পরে কিছু নাই, শুধু জিহান। আচ্ছা ভাই, আপনার কাছে ৫টা টাহা অইব? আমাৱে ৫টা টাহা দিবেন?


কাজল: কেনো? ৫ টাকা দিয়া তুই কি করবি? 


জিহান: ভাই, রাইতে কিছু খাইনাই । সকালেও ওই ডাস্টবিনে খাওয়ার মতো কিছু পাইনাই। পেটে অসহ্য খিদা। যদি কিছু খাইতে পারি….. 


কাজল কিছুক্ষণ ভেবে..........টং দোকানের মামাকে ডাকে, মামা; একটা চা আর দুইডা বিস্কিট দিয়ো তো।


আনতেছি মামা।


আচ্ছা জিহান, তোকে তো আমি সকালের নাস্তা করাবো কিন্তু বিনিময়ে তুই আমারে কি দিবি বল?


জিহান বলে আপনি কি চান? আপনার মাথা টিপা দিমু?


কাজল: না আমি একটু জিহানের গল্পটা শুনতে চাই।


জিহানের গল্পের সূচনা ;


একটা মহিলাকে জিহান মা বলে জানত এবং উনাকে মা বলেই ডাকত। কিন্তু তার আসল বাবা-মা কে, জিহান বা সেই মা সেটা জানত না।


হঠাৎ এক সকালে,


তার পালিত মা বলে, আমি তোর আসল মা না, তোর আসল বাবা-মা কে সেটাও আমি জানি না। তোকে আমি এক বৃষ্টি ভেজা রাতে কুঁড়েয়ি পেয়েছি। নবজাতক, গা হাত পা ঠান্ডা, খুব মায়া লেগেছে ফুটফুটে মায়া। তারপর আমার চাঁদরে জড়িয়ে তোকে ঘরে নিয়ে আসি। 


জিহান বলে না, তুমিই আমার মা, আমি এটাই জানি ঐ কথাটি জিহান বিশ্বাস করে না। 


এমনি করে  হঠাৎ একদিন তার পালিত মা মারা যায়। মারা যাওয়ার সময় তার মা তাকে বলে যায়, যদি পারিস তবে তোর নিজের বাবাকে মাকে খুঁজে বের করিস। 


মায়ের সাথে কোনভাবে সুখে দুখে দিন কাটছিলো জিহানের।


কিন্তু শেষ আশ্রয়স্থল তার মা চলে যাওয়ার পর থেকেই শুরু হয়, জিহানের জীবনের মূল ট্রাজেডি। সে এই নিষ্ঠুর পৃথিবীর সাথে যুদ্ধ করে চলতে থাকে আর তার নিজের মা-বাবাকে খুঁজে বেড়াতে থাকে। (কারণ মৃত্যুর সময় ঐ মা বলে দিয়েছিল)।


প্রতিনিয়ত না খেয়ে উপোষ থেকে, স্টেশনে স্টেশনে রাত কাটিয়ে, এই নিষ্ঠুর সমাজের সাথে লড়াই করছে জিহান।  


আমাদের সমাজের বিত্তবান, জ্ঞানী লোকেরাই সজোরে লাথি মারছে তার ললাটে। অসহায়  জিহান উপার্জন আর বেঁচে থাকার লক্ষে হন্ন হয়ে কাজ খুঁজে বেড়ায়।

আধ পেটে জিহান এখন রাস্তায় থমকে দাঁড়িয়ে । মানুষের ফেলে দেয়া খাবার-ই জিহানের এখন প্রাত্যহিক আহার। জিহান আশ্রয় পথে ঘাটে। তারপরও অভিযোগের রেশ নেই, দিব্যি চলছে। 


মা'র মৃত্যুর পর কিছুদিনে জিহান খানিকটা বড় হয়েছে। শিশু থেকে পথশিশু হয়েছে। চুল গুলো বেশ উষ্কখুষ্ক, গায়ে হাফ হাতা গা ঝোলানো শার্ট, পরনে মেরু রংয়ের একটি প্যান্ট, এই তার পোশাকআশাক, বাহারি সাজ। 


এক রাতে জিহান গাছের নিচে বসে খুব কাঁদছে, তার মা'র কথা মনে করে। বাইরে ঝুম বৃষ্টি। জিহান বৃষ্টিতেই কাঁদে। বৃষ্টি আর তার কান্না একাকার হয়ে মিশে যায়।  তার চোখের নিষ্পাপ জল এই শহর দেখতে পায় না। আচমকা,  রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলো এক ভদ্রলোক। বৃষ্টি দেখে ভদ্র লোক গাছের নিচে গিয়ে দাঁড়ায়, আশ্রয় নেয়। 


তিনি লক্ষ্য করল, তার পাশে ছোট ছেলেটি খুব কাঁদছে। জিজ্ঞেস করল, তুমি কাঁদছো কেনো? জিহান বললো এমনি। তখন ভদ্রলোক বললেন তুমি কোথাই থাকো? জিহান বলল স্যার আমি এখানেই থাকি। আমার মা-বাবা কেউ নাই।


পর মুহুর্তে জিহানের দু'মুঠো খাওয়ার আর থাকার একটা বন্দোবস্ত হলো। একটা নিশ্চিত আশ্রয় হল ঐ ভদ্রলোকের বাসায়। ভদ্রলোক সেই বৃষ্টির রাতে গাছতলা থেকে জিহানকে তার নিজের বাসায় আশ্রয় দেন। 


সেই ভদ্রলোক শিশুদের নিয়ে একটি সংস্থায় কাজ করেন। গরীব - দরিদ্র শিশুদের সাহায্যে করেন। তাদের পড়াশোনা, তাদের একটি নিশ্চিন্ত ভবিষ্যৎ এসব নিয়ে দিনরাত খাটেন।

একজন দারুন সমাজ সেবকও বটে। 


ভদ্রলোকের বাসায় আসার পর জিহানের প্রত্যাহিক রুটিনে খুব নিয়ম এসেছে, কড়া নিয়ম। ঘুম থেকে উঠে ঘর পরিষ্কার করা, ভদ্রলোকের জন্য নাশতা তৈরী করা, ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলা, কাপড় কাঁচা এই করেই সকাল থেকে রাত হয় জিহানের।

ভদ্রলোকের আদেশের বাইরে এদিক সেদিক হলেই পিঠে বেত্রঘাত পড়ে। 

সারাক্ষণ জিহান এখন ভয়ে দুমড়েমুচড়ে থাকে। মাঝে মাঝে জিহান ভাবে তাতে কি, দু'মুঠো খেতে আর রাতে শুতে তো পারছি। অল্পতেই জিহান মহাসুখি। 


এক সকালে, জিহানের প্রচন্ড জ্বর। জিহান বিছানা ছেড়ে উঠতে পারছে না। তাই জিহান ভদ্রলোককে সকালে ঘুম থেকে ডাকতে পারেনি। সেজন্য তার অফিসে যেতে কিঞ্চিত দেরি হয়েছে। খুব জ্বরের মধ্যেও ভদ্রলোক জিহানকে ছাড় দেন নি। প্রচুর মেরেছে। 

জিহান এখন একটু বুঝতে শিখেছে। বিত্তবান লোকদের থেকে খানিকটা বিবেকবান হয়েছে জিহান। তার বিবেক সমাজের ঐ ভদ্রলোকসুলভ  লোকের চেয়েও উত্তম। ভদ্রলোকের করা সংগঠন, শিশুদেরকে নিয়ে লোক দেখানো কাজ খানিকটা কৌতুকরস মনে করছে জিহান। তার মতে, এমন কৌতুক না করাই উত্তম যা নির্মম।


সেদিন জিহান মার খেয়ে পালিয়ে যায় ভদ্রলোকের বাসা থেকে। 

আবার সেই অনিশ্চিত জীবন। আশ্রয় সেই গাছতলায়, তবে এই জীবনে জিহান দিনশেষে খুশি। মনের আনন্দই যে তার দেহের, প্রাণের শক্তির জোগানদার।  জিহান বেঁচে থাকার গান গায়। জিহান এখন লড়াই এর জন্য প্রস্তুত দিনের শুরুতেই। 


কাজল অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে তার চোখের দিকে। জিহানের ঐ নিষ্পলক চোখ দিয়ে অশ্রু বর্ধন হচ্ছে। যা রীতিমত কাজলের হৃদয় শীতল করে দিচ্ছে। কাজল খুব সাধারাণ পরিবারের, মফস্বল শহরে বেড়ে উঠা উঠতি এক তরুন মাত্র। না বিত্তবান, না সমাজে প্রতিষ্ঠিত। তবে কাজল পথ শিশুদের জন্য একটা সংস্থা তৈরী করেছে তার বন্ধুদের নিয়ে। তারা প্রতিনিয়ত পরিশ্রম করে, টিউশনির টাকা জমিয়ে এই সংস্থার ব্যয় বহন করে। তারা শিক্ষার আগে চায় পথশিশুদের থাকা-খাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে। তারা, পথশিশুদের নিরক্ষরও রাখতে চায় না। কাজল বলে এই সোনার বাংলা ততদিন সোনায় প্রতিফলিত হবে না যতদিননা বিত্তবানরা জমিতে এসে, শষ্য না ফলাবে। অন্যথায় একদিন এই শষ্য ফুরিয়ে যাবে, আমাদের শহরে ফোটা এই শিশুরাও নিমিষে হারিয়ে যাবে বৃষ্টির ফোঁটার সাথে সাথে। 


কাজলের সাথে জিহানের দিন এখন ভালোই কাটছে। তবুও ঝাপসা হৃদয়ে জিহানের চোখ এখনো তার হারানো বাবা-মা কে খুঁজে। 

অন্যদিকে, কাজল আর তার বন্ধুরা মিলে কাজ করছে পুরোদস্তরে। থেমে থাকার জো নেই তাদের। নতুন কিছু করাই যেনো তাদের ধর্ম। এই কাজলরাই তো আলগোছে আগলে রাখছে হাজারো পথশিশুকে। দু'পায়ে ছেড়াজুতো আর কাঁধে মলাটো ব্যাগ ঝুলিয়ে হেঁটে চলছে তাদের অজানা গন্তব্যের দিকে। 

রবিবার, ১ আগস্ট, ২০২১

ফেরা - ৩য় পর্ব।



অনেকদিন বাদে রাত্রিরে বেশ ভালোই ঘুম হলো৷  নিশ্চিন্ত মস্তিষ্কের ঘুম।  দেয়াল ঘড়িটার দিকে তাকালাম, সময় ৫ঃ৪৫।  বিছানা ছেড়ে উঠে বসলাম৷  মা'কে খুব মনে পড়ছে৷  না জানি কি করছে৷  আসার সময় দেখে এসেছি মায়ের চোখ দুটো ছলছল, একফোঁটা অশ্রুপাত হয়নি৷  তবে কি মায়ের অশ্রুবিসর্জন আমার অনুপস্থিতিতে হয়৷
  
মা'গো তোমাকে ভীষন মনে পড়ছে।  
পাখির শব্দ।  স্রষ্টার অদ্ভুত সৃষ্টি।  রোজ সকালে মানুষের ঘুম ভাঙ্গানো এদের কাজ৷  খিটখিটে শব্দ নয়, মধুমাখা শব্দ।  কানে সুড়সুড়ি দিয়ে জাগিয়ে তোলে।  অলস সকাল-ও  সক্রিয় হয়৷        
জানালার ঘা ঘেঁসে অাসছে সুরভী সুভাস৷  এই বাড়ির সব কিছুই অামাকে মুগ্ধ করছে৷  অাচমকা দরজায় ঠকঠক শব্দ৷  রাফির অাগমন৷  উচ্চস্বরে বলছে 'স্যার বাবা ডাকছে, নাস্তা করার জন্য৷ 

অামি গিয়ে দরজাটা খুললাম।  
রাফিঃ স্যার বাবা অপেক্ষা করছে অাপনার জন্য।  অাসেন৷  
অামিঃ তুমি যাও৷ স্যার অাসছি৷  
অাব্বা মারা যাওয়ার পর অার পরিবারকে নিয়ে একসাথে বসে নাস্তা করা হয়নি৷  খুব টানাটানির সংসার ছিলো৷  সে এক অন্য পরিক্রমা। 
অান্টি টেবিলে নাস্তা দিলেন।  উর্মি-ও এগিয়ে দিচ্ছে থালা৷  মার নেউটা বলে কথা৷  খুব নাজুক অবস্থা অামার৷  
খেতে খেতে চাচা জিঙ্গেস করলেন; কাল রাতে কেমন ঘুম হলো?  
অামি খাবার মুখেই মাথা নেড়ে জবাব দিলাম জ্বী চাচা বেশ ভালো৷  
অান্টি রান্নাঘর থেকে বলছে শোনো তোমার কোনো অসুবিধা হলে অামাকে বলবে।  
পাশ থেকে রাফিও বলে উঠল স্যার অামাকেও বইলেন৷  
অামি মৃদুস্বরে হাসলাম৷  চোখ উঠাতেই দেখলাম অাড়চোখে উর্মির দৃষ্টি৷  অামি রীতিমতো সংকোচিত হলাম।  অামার কথা যদি বলি ছিপছিপে গড়নের সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ করা, লোকে দেখলেই বুঝে যায় চরানচলে অভাব অনটন পরিবারের বড় ছেলে৷  যার মস্তিষ্কে পাহাড়সম দায়িত্ব।  
নাস্তাপর্ব শেষ। সকাল নয়টার নাগাদ দরজার ওপাশে রাফি অার অারফান।  
স্যার অাসবো? 
হ্যা হ্যা অাসো৷  
ওরা পড়তে এসেছে।  অামি পড়ানো শুরু করলাম।  রাফি যথারিতি অস্থিরতাভাব প্রকাশ করছে।  
অামি রাফিকে জিঙ্গেস করলাম উর্মি কোথাই? পড়বে না? 
রাফির ছটফটা উত্তর; স্যার অাপুর স্কুল সকাল ৮টা থেকে।  
ওহ ; অাচ্চা পড় তোমরা৷ । 

ওদের বাড়ির গেইটের ভিতরে বিশাল বহর জায়গা৷  একপাশে একটি পুকুরঘাট অাছে। দিনের বেলায় বাড়িটা বেশ রমরম শব্দে পরিপূর্ণতা পায়।  বাড়ির উঠোন থেকে পুকুরঘাট অবিরাম চলছে ফিসফিস শব্দ৷  ফিসফিস এই শব্দটা একান্তই স্ত্রীবাচকের দখলে।  এতে অামাদের নাক না ডুবানোই ভালো।  অামরাতো চায়ে বিস্কুট ডুবিয়ে খেতে গিয়ে, বিস্কুট ও গলে গিয়ে ডুবে যায়।  
রমনীদের চলার শব্দ,  কিশোরিদের নূপুরের ছন্দ, নিশব্দে ফেলে যাওয়া নিঃশ্বাস ক্রমেই জোড়ালো হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে পুরো বাড়িতে, অার গড়িয়ে পরি অামি। 

দরজার ফুটে দিয়ে দেখি বাইরে কেউ অাছে কিনা?  সেই সকাল ১১টা থেকে দেখি অাসছি কেউ না থাকলেই টুক করে বেরিয়ে গোসল করে অাসব৷  এই বাড়ির সবাই অামাকে বেশ অাপন করে নিয়েছে৷  পুরো বাড়িজুড়েই অামার তোষামোদ চলে।  পুকুরঘাট থেকে রসুইঘর একটাই কথা এই বাড়িতে লজিং অাসছে৷  

অামার বিরুদ্ধে কারোর কোনো অভিযোগ নেই।  গা গমগম করে অাপ্যায়ন চলছে।  
এমনি হঠাৎ খেয়াল করলাম গেইট দিয়ে উর্মি ডুকছে।  অাঙ্গুলের ইশারায় অামি ডাক দিলাম ; 

উর্মি সামনে অাসলো।  অামি বলছি; অনেকক্ষণ ধরেই বেরুতে চেষ্টা করছি গোসল করার জন্য, কিন্তু এতো মেয়ে বাইরে অামার প্রচন্ড ইতস্তত বোধ হচ্ছে। 
উর্মি একটু মুচকি হেসে বলছে, স্যার অাপনি অামার সাথে অাসেন।
অামি এইরকম ভুবন ডাঙ্গার নিঃশব্দ হাসি অাগে কখনো দেখিনি।  শব্দহীন বয়ে যাওয়া উল্লাস এটি।  

যোহরের অাজান হলো৷  অামি নামাজ পড়া শেষ করলাম৷  বিছানায় শুয়ে অাছি, মাথার পাশে রাখা শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর রক্তকরবী৷  এই নন্দিনী কে অামি বড়ো ভালোবাসি৷  অামার প্রিয় ফুল রক্তজবা।  
দুপুরে সবাই একসাথে খেতে বসেছি৷  চাচা রুম মাছের বড় মাথাটা অামার পাতে তুলে দিলেন।  অামি চামচে হাত ঠেকেয়ি না নিতে চাইলাম৷ 

তারপর অান্টি জোর করে পাতে তুলে দিলেন৷  রাফি খাবার নিয়ে নানারকম বায়না করছে।  
উর্মি পাশে বসে খাইয়ে দিচ্ছে।  অামার খুব সুফিয়ার কথা মনে পড়ছে।  অামার অাদুরে বোন৷  কিন্তু কপালপোড়া; জন্ম থেকেই খেটে যাচ্ছে।  কি জানি কতদিন রুই মাছের মাথা খায় না সুফিয়া? 

পড়ন্ত সূর্যের ডুবে যাওয়া,  গোধুলির অবসর। এই সময় পুকুরঘাটটি খালি থাকে।  তাই এটাই উপযুক্ত সময় অামার বসে অবসর কাটানোর৷  অামি এখনো যাদের অাপন ভেবে নিয়েছি তাদের মধ্যে এই পুকুরটিই অন্যতম।  
অাপন মনে নীরব কথাগুলো বলি তার সাথে।  বয়ে যাওয়া কথোপকথ,  কতশত পংক্তিমালা।  

অারফান এর কাছ থেকে শুনেছি এই পুকুরঘাটে নাকি পরীরা অাসে।    পুকুরে নামে, ঘা বিজিয়ে নেয়। 
তবে অামি এখনো এরম অাগন্তুক দৃশ্য দেখিনি।  পরীরা বোধহয় বেশ সুন্দর হয়,  অামার মায়ের মতো। 
অামার মা; গাড় কৃষ্ঞবর্ন,  হরিণের মতো চোখ, কখনো কাজল পড়েনি, দৃষ্টিতে অগ্নির ছোঁয়া, গড়পড়তার এই জীবনে হতাশা, বেদনা, তবু-ও বাচবার লড়াই৷  অামার পরী তবে অামার মা!  

চলবে............                        
                                                        

ফেরা - ২য় পর্ব।



স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বাড়িতে প্রবেশ করলাম। কি এক অদ্ভুত মায়া জন্মালো চাচার প্রতি। পেটে ভীষন খিদা লেগেছে। রান্নাঘরের দিকে গেলাম। মা, ছোটমামা, সুফিয়া খেতে বসেছেন।
আমাকে দেখে সুফিয়া বলে উঠল; ভাইয়া তুই বস, আমি তোকে খেতে দিচ্ছি।
আমি গিয়ে বসলাম মামার পাশে।
মামা বলছে; কিরে নামাজ শেষে বাড়ি ফিরতে এতো সময় নিলি?
আমি বললাম; হ্যা, একটু কাজ ছিলো মামা।
সুফিয়া খাবার সামনে এনে দিলেন। ডাল-ভাত দারুন পছন্দ আমার৷ সহজ খাবার। খাবার খেয়ে সবাই উঠে রুমে চলে গেলো। মা বসে আছেন। আমি মনে মনে কৌশল করছি মাকে কি করে চাচার কথাটা বলব।


মা;
হ্যারে বল;
একটা কথা ছিলো।
হ্যা বল না। কিছু কি হইছে বাবা?
ওই যে, রহিম চাচা আছে না, আজ মসজিদে দেখা হলো, কেমন আছি, কবে আসলাম এসব জিঙ্গেস করল;
মা বলল ; ওহ রহিম ভাই। বড়ো ভালো মানুষ রে। তোর আব্বা যখন মারা গেলো কাফনের কাপড় কেনার টাকা ছিলো নাহ আমাদের কাছে। তখন তোর নানাও ছিলো নাহ। খুব বিপাকে ছিলাম। তখনই রহিম ভাই সব বহন করছিলো।
হ্যা মা। মানুষটার মধ্যে অদ্ভুত মুগ্ধতা আছে। আপন করে নেওয়ার ক্ষমতাও বেশ ভালো।
হ্যা রে খোকা; তুই কি বলবি বলছিলি;
শোনো- রহিম চাচা বললো উনার ছেলেমেয়ে কে পড়াতে, সাথে আমিও ওখানে থেকে পড়ব।    
হ্যা রে খোকা.... 
হ্যা মা,  কিছু বলবে?
তো; তুই কি বললি? যাবি? 
দেখো মা, এখানে ছোটো মামার সাথে তুমি আর সুফিয়া থাকো। মামার সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে আমি বুঝি। এই অবস্থায় আমার পড়ালেখা চালানো মামার জন্য দুর্বিষহ হয়ে উঠবে৷ তাই ভাবছি রহিম চাচার ওখানে থেকে অামার পড়ালেখা, থাকা-খাওয়ার খরচটা দিব্যি হয়ে যাবে। 
তুই আইজ-ই যাবি বাবা?
হ মা' আইজ বিকাল কইরা রওনা দিমু। 


এই বলে, উঠে আসলাম বাড়ির উঠানে৷ ব্যাগপত্র ঘুছিয়ে নিয়েছি। মা'কে সালাম করে বের হলাম। 
মা ভালো থেকো৷ সুফিয়াকে দেখে রেখো। 
তুই ও ভালো থাকিস বাবা৷  
সুফিয়া ভ্যা ভ্যা করে কাঁদছে। আমি কাছে ডেকে চোখ মুছে দিলাম৷ কাঁদিস নাহ পাগলি। ভাইয়া চলে আসবো। 

রহিম চাচার বাড়ির সামনে বিশাল ফটক৷ ফটকের মুখেই দাড়িয়ে আছে তাদের পোষ্য প্রানী৷ কুকুর। কুকুর নাকি খুউব বিস্বস্ত হয়। আচ্ছা মানুষ কি বিস্বস্ত হয় নাহ? 
ফটকের একটু সামনের দিকে আসা মাত্রই কুকুরগুলো ঘেউ ঘেউ শুরু করল। অপরিচিতদের দেখলেই এরা ঘেউঘেউ করতে থাকে। বাড়ির মালিককে হুঁশিয়ার বার্তা দেয়৷ কুকুরের শব্দ পেয়ে রহিম চাচা দৌড়ে বাইরে বেড়িয়ে এলেন। 

অারে রায়হান, বাবা তুমি? আসছো। আসো, আসো। 
জ্বী চাচা; সবে আসলাম। 
চাচা বাাড়ির ভেতর নিয়ে গেলেন। তাদের বিশাল বাড়ি। খোলা উঠান। দক্ষিনে একটা বাগান ও আছে।
 
চাচাদের ড্রয়িংরুমের সোফায় বসলাম। তার মধ্যে উনার দুই ছেলে আসলো। 
চাচা বললেন; এদিকে আসো সালাম দাও। উনি তোমাদের স্যার। আজ থেকে  উনিই তোমাদের পড়াবেন। 
আসসালামুআলাইকুম স্যার....... 
ওয়া আলাইকুম সালাম।  কি নাম তোমাদের? 
জ্বী স্যার, আমার নাম রাফি। আর ওর নাম আরফান৷ 

এরমধ্যেই চা নাস্তা হাতে নিয়ে একজন মাঝবয়সী  আন্টি ডুকলেন। আমার খুব ইতস্ততঃ বোধ হচ্ছিলো। এই প্রথম আমার জন্য কোথাও এতো কদর দেখছি। আমি সালাম দিলাম। 
আন্টি বলল ; বাবা নাও; নাস্তা করো। আর এই বাড়িতে একেবারে নিজের মতো করে থাকবে। তোমার থাকা খাওয়ার অসুবিধে হলে আমাকে বলবে। 
আমি সবেতেই মাথা নাড়িয়ে যাচ্ছি। জ্বী আন্টি। ( আমার গলার স্বরে কথা কেমন যেনো আটকে যাচ্ছিল)

হঠাৎ করেই খেয়াল করলাম পর্দার আড়াল থেকে কেউ একজন আমাদের কথা শুনছেন। 
চাচা লক্ষ্য করলেন। তারপর; চাচা বললেন; উর্মি মা, আয় এদিকে আয়। 
চাচা আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, এ হলো আমার বড় মেয়ে৷ উর্মি। এইবার সেভেনে উঠেছে। 
উর্মি সালাম দিলো। চাচার ব্যবহারেই বুঝা যায় পরিবার টা খুব মার্জিত এবং বিনয়ী। অাদব কায়দা সবারই জানা। 
আমি ছোটেবেলা থেকেই মার নেউটা ছিলাম। খুউব লাজুক। আমি উর্মির দিকে না থাকিয়েই সালামের জবাব দিলাম। 
সন্ধ্যা নেমে এলো। মাগরিবের আযান হলো। চাচা অার আমি নামাজ পড়তে গেলাম। 

নামাজ শেষ করে, বাড়ি ফেরার পথে আমি মনে মনে ভাবছি উনাদের আস্থার মান রাখতে পারবো কি ' না? 
বাাড়ি ফিরলাম৷ চাচা ওদের পড়ার রুমটা দেখিয়ে দিলো। ওদের পড়ার রুমের টেবিলটা হলো দক্ষিনা বাগানের পাশে। ওখানে অনেক রকম ফুলের সুভাষ৷ পুরো ঘরটা মৌ মৌ করছে। 
এমনি দরজায় ঠক শব্দ। রাফি,  আরফান ঘরে ডুকল৷ আমি বললাম তোমরা বসো। তোমাদের আপু কোথাই? 
রাফি বলল; স্যার আসতেছে। 
রাফি খুব অস্থির স্বভাবের। ওর কথা-বার্তায় তা ক্রমশই প্রকাশ পাচ্ছে। আর আরফান একেবারেই বিপরীত। চুপচাপ, শান্ত প্রকৃতির। 

আমি ওদের পড়ানো শুরু করলাম। কিছু সময় পর, উর্মি আসলো। 
জানালা ঘেঁষে এক বৈরী হাওয়া বয়ে গেলো। 
উর্মি, রাফির পাশের চেয়ারটায় বসল৷ আমি খুব ভয়ে ধীর স্বরে বললাম, দেরি হলো কেনো উর্মি? 
ও চুপ ছিলো।  উত্তর দেয়নি। 
উর্মির এই চুপ থাকার অর্থ মেলাতে পারিনি।  

উর্মি নাজুক বোধহয়। ধবধবে সাদা চামড়া নাহ, শ্যাম-বর্ন, ঠোঁটের এক কোনে একটা তিল আছে। মায়াবী কন্যা। 
পড়ানো শেষ। রাতে খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লাম।  ওদের দক্ষিণা বাগানের দিকে ছোট্ট একটা ঘর৷ 
এই ঘরটাই এখন আমার ঠিকানা৷ এই বাড়িটাই আমার এখন আশ্রয়। 

চলবে..............

ফেরা - ১ম পর্ব।



রাত্তির দুটার নাগাদ৷ হঠাৎ বিছানার পাশে রাখা মোবাইল ফোনটি বেজে উঠল। গভীর ঘুম। ২য়বার আবার বাজলো। চোখ কচলাতে কচলাতে ফোনটি তুললাম। কানে দেয়ার পর, ওপাশ থেকে শুনতে পেলাম "ভাইয়া মা'র শরীরটা ভালো নাহ। রাত থেইকা খালি তোর কথা কইতেছে। তোরে অনেকবার কল দিছি, তুই ধরস নাই, ভাইয়া এই নে ধর মার সাথে কথা বল।

আমি উঠে বসলাম৷ হঠাৎ করে কিছুই বুঝে উঠতে পারছিনাহ।

হ্যালো মা!
বাবা! তুই কেমন আছিস? বাড়ি আসবি কবে? তোর টাহা পয়সা লাগবো নাহ। তুই বাড়ি চলে আয়। মার লগে থাকবি। ডাইল ভাত খাইয়া বাচুম।
মা! ও- মা! আমি ভালা আছি। তুমার কি হইছে? জ্বর?
নারে বাপ! আমার তোরে দেহোনের অসুখ হইছে৷
মা! দেশের এই পরিস্থিতি। সব লকডাউন। গাড়ি ঘোড়া কিছু চলে নাহ। চাকরীও বন্ধ মা। ক্যামনে যাই৷ আমিও যে ভালা নাই মা! তোমারে সেই কবে দেখছি, তখন কী শীত ছিলো। এহন উত্তপ্ত গরম মা।
তুই ভালা থাক বাপ! সাবধানে থাক।
আমার মনে হলো মা আচল দিয়ে চোখ মুছছে। আমার মায়ের অশ্রুসিক্ত নয়ন।

মা'র নাকি গত দুদিন ধরে শুকনো কাশি। বোনকে জিঙ্গেস করলাম, গলাব্যথা, জ্বর আছে কি না? ও বলল - না ভাইয়া এসব নাই। যাক দুশ্চিন্তা নামল করোনা হয়নাই। ভাই সুযোগ পেলেই চলে আসব। বোনকে বুঝিয়ে ফোনটা রাখলাম।
ওয়াশ রুমে গিয়ে চোখে-মুখে পানি দিলাম৷ রুমে বাতি জ্বলছে দেখে রুমমেট সজীব একবার উঠল। তারপর আবার ঘুমিয়ে পড়ল। ব্যাটা এক ছিচকাদুনির সাথে প্রেম করে। সারারাত ফোনে কথা বলে, আর আফিস গিয়ে ঘুমায়।
সজীব আমার কলিগ। আমি রায়হান। একটা এনজিও তে চাকরি করি। আমার বাবা অল্প বয়সে মারা যায়।

সংসার বলতে আমি, মা আর বোন সুফিয়া। বাবার চলে যাওয়ার পর থেকে সংসার এর হাল বইতে হলো আমাকেই। মামার বাড়ি থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছি। তারপর আর মামার ও সামার্থ্য ছিলোনা পড়ানোর। আসলে কথায় আছে নাহ "অভাগা যেদিকে যায় সাগর শুকিয়ে যায়" আমার হলো ওই দশা।

ব্যাগ-পত্র গুছিয়ে রওনা হলাম, লক্ষীপুর। মায়ের কাছে। মা আর সুফিয়া থাকে লক্ষীপুর নানার বাড়িতে। তাদেরও অভাবের সংসার। ছোট মামা সংসার চালায়৷ দিন আনে দিন খায়, এমন করেই চলছিলো। এখন নতুন করে গিয়ে জুটলাম আমি। ভাবছি কি করা যায়।

সবে এইট পাশ করলাম, কিছু করতে চাওয়া মানে লেখাপড়া টা ছেড়ে দেয়া। কিন্তু লেখাপড়া করে বড় হওয়ার স্বপ্ন বুনছি প্রতিদিন, অন্যদিকে এই অভাব চোখে সইছে নাহ।
দিন যাচ্ছে, সংসারে খরচ - ও বাড়ছে৷ মা-ও অভাবের তাড়নায় ক্রমাগত অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

একদিন জুমা বার। মসজিদে নামাজ আদায় করতে গেলাম। নামাজ শেষে বসে আছি। তাসবিহ পড়ছিলাম আপন মনে। এমনি পাড়ার একজন চাচা এসে পাশে বসল। আমি সালাম দিলাম। উনি বলল, বাবা কেমন আছো? মামার বাড়ি থেইকা আসলা কবে ? অামি বললাম এইতো চাচা কয়েকদিন হলো।

চাচা বলেন, তো বাবা এহন কি করো?
ক্লাস এইট পাশ করে নাইনে উঠছি। এহন এখানে স্কুলে ভর্তি হমু৷ কিন্তু টাহা পয়সা নাই ক্যামনে যে কি করমু চাচা!
চাচা কিছুক্ষণ ভেবে বললেন, তো বাবা তুমি অংক ক্যামন বুঝো?
আমি বললাম, বুঝি চাচা, মানানসই।
চাচা বলেন; তুমি এক কাম করো আমার বাড়িতে লজিং থাকো। আমার দুইডা পোলা আছে, ফাইভে পড়ে, আর একটা মাইয়া আছে ক্লাস সেভেন এইবার।
তুমি ওদেরকে পড়াবা, সাথে নিজেও পড়বা। তোমার লেখাপড়ার খরচ আমিই চালামু।

আমি চাচার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি। মনে হলো ঈশ্বরের পাঠানো কোনো দূত কথা বলছেন। আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলি। বললাম ঠিক আছে চাচা; আমি আইজ সন্ধ্যায় আপনাকে জানামু। এহন তাইলে আসি। আসসালামুআলাইকুম....

রমজানে মী-টাইম, উই-টাইম বের করা খুব টাফ ছিলো। রমজানের একটা ব্যস্ততা তো থাকেই তার সাথে সাথে সবার অফিসের কাজের চাপ। সবমিলিয়ে আমরা একসাথে থাকলে...