রবিবার, ১ আগস্ট, ২০২১

ফেরা - ২য় পর্ব।



স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে বাড়িতে প্রবেশ করলাম। কি এক অদ্ভুত মায়া জন্মালো চাচার প্রতি। পেটে ভীষন খিদা লেগেছে। রান্নাঘরের দিকে গেলাম। মা, ছোটমামা, সুফিয়া খেতে বসেছেন।
আমাকে দেখে সুফিয়া বলে উঠল; ভাইয়া তুই বস, আমি তোকে খেতে দিচ্ছি।
আমি গিয়ে বসলাম মামার পাশে।
মামা বলছে; কিরে নামাজ শেষে বাড়ি ফিরতে এতো সময় নিলি?
আমি বললাম; হ্যা, একটু কাজ ছিলো মামা।
সুফিয়া খাবার সামনে এনে দিলেন। ডাল-ভাত দারুন পছন্দ আমার৷ সহজ খাবার। খাবার খেয়ে সবাই উঠে রুমে চলে গেলো। মা বসে আছেন। আমি মনে মনে কৌশল করছি মাকে কি করে চাচার কথাটা বলব।


মা;
হ্যারে বল;
একটা কথা ছিলো।
হ্যা বল না। কিছু কি হইছে বাবা?
ওই যে, রহিম চাচা আছে না, আজ মসজিদে দেখা হলো, কেমন আছি, কবে আসলাম এসব জিঙ্গেস করল;
মা বলল ; ওহ রহিম ভাই। বড়ো ভালো মানুষ রে। তোর আব্বা যখন মারা গেলো কাফনের কাপড় কেনার টাকা ছিলো নাহ আমাদের কাছে। তখন তোর নানাও ছিলো নাহ। খুব বিপাকে ছিলাম। তখনই রহিম ভাই সব বহন করছিলো।
হ্যা মা। মানুষটার মধ্যে অদ্ভুত মুগ্ধতা আছে। আপন করে নেওয়ার ক্ষমতাও বেশ ভালো।
হ্যা রে খোকা; তুই কি বলবি বলছিলি;
শোনো- রহিম চাচা বললো উনার ছেলেমেয়ে কে পড়াতে, সাথে আমিও ওখানে থেকে পড়ব।    
হ্যা রে খোকা.... 
হ্যা মা,  কিছু বলবে?
তো; তুই কি বললি? যাবি? 
দেখো মা, এখানে ছোটো মামার সাথে তুমি আর সুফিয়া থাকো। মামার সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে আমি বুঝি। এই অবস্থায় আমার পড়ালেখা চালানো মামার জন্য দুর্বিষহ হয়ে উঠবে৷ তাই ভাবছি রহিম চাচার ওখানে থেকে অামার পড়ালেখা, থাকা-খাওয়ার খরচটা দিব্যি হয়ে যাবে। 
তুই আইজ-ই যাবি বাবা?
হ মা' আইজ বিকাল কইরা রওনা দিমু। 


এই বলে, উঠে আসলাম বাড়ির উঠানে৷ ব্যাগপত্র ঘুছিয়ে নিয়েছি। মা'কে সালাম করে বের হলাম। 
মা ভালো থেকো৷ সুফিয়াকে দেখে রেখো। 
তুই ও ভালো থাকিস বাবা৷  
সুফিয়া ভ্যা ভ্যা করে কাঁদছে। আমি কাছে ডেকে চোখ মুছে দিলাম৷ কাঁদিস নাহ পাগলি। ভাইয়া চলে আসবো। 

রহিম চাচার বাড়ির সামনে বিশাল ফটক৷ ফটকের মুখেই দাড়িয়ে আছে তাদের পোষ্য প্রানী৷ কুকুর। কুকুর নাকি খুউব বিস্বস্ত হয়। আচ্ছা মানুষ কি বিস্বস্ত হয় নাহ? 
ফটকের একটু সামনের দিকে আসা মাত্রই কুকুরগুলো ঘেউ ঘেউ শুরু করল। অপরিচিতদের দেখলেই এরা ঘেউঘেউ করতে থাকে। বাড়ির মালিককে হুঁশিয়ার বার্তা দেয়৷ কুকুরের শব্দ পেয়ে রহিম চাচা দৌড়ে বাইরে বেড়িয়ে এলেন। 

অারে রায়হান, বাবা তুমি? আসছো। আসো, আসো। 
জ্বী চাচা; সবে আসলাম। 
চাচা বাাড়ির ভেতর নিয়ে গেলেন। তাদের বিশাল বাড়ি। খোলা উঠান। দক্ষিনে একটা বাগান ও আছে।
 
চাচাদের ড্রয়িংরুমের সোফায় বসলাম। তার মধ্যে উনার দুই ছেলে আসলো। 
চাচা বললেন; এদিকে আসো সালাম দাও। উনি তোমাদের স্যার। আজ থেকে  উনিই তোমাদের পড়াবেন। 
আসসালামুআলাইকুম স্যার....... 
ওয়া আলাইকুম সালাম।  কি নাম তোমাদের? 
জ্বী স্যার, আমার নাম রাফি। আর ওর নাম আরফান৷ 

এরমধ্যেই চা নাস্তা হাতে নিয়ে একজন মাঝবয়সী  আন্টি ডুকলেন। আমার খুব ইতস্ততঃ বোধ হচ্ছিলো। এই প্রথম আমার জন্য কোথাও এতো কদর দেখছি। আমি সালাম দিলাম। 
আন্টি বলল ; বাবা নাও; নাস্তা করো। আর এই বাড়িতে একেবারে নিজের মতো করে থাকবে। তোমার থাকা খাওয়ার অসুবিধে হলে আমাকে বলবে। 
আমি সবেতেই মাথা নাড়িয়ে যাচ্ছি। জ্বী আন্টি। ( আমার গলার স্বরে কথা কেমন যেনো আটকে যাচ্ছিল)

হঠাৎ করেই খেয়াল করলাম পর্দার আড়াল থেকে কেউ একজন আমাদের কথা শুনছেন। 
চাচা লক্ষ্য করলেন। তারপর; চাচা বললেন; উর্মি মা, আয় এদিকে আয়। 
চাচা আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, এ হলো আমার বড় মেয়ে৷ উর্মি। এইবার সেভেনে উঠেছে। 
উর্মি সালাম দিলো। চাচার ব্যবহারেই বুঝা যায় পরিবার টা খুব মার্জিত এবং বিনয়ী। অাদব কায়দা সবারই জানা। 
আমি ছোটেবেলা থেকেই মার নেউটা ছিলাম। খুউব লাজুক। আমি উর্মির দিকে না থাকিয়েই সালামের জবাব দিলাম। 
সন্ধ্যা নেমে এলো। মাগরিবের আযান হলো। চাচা অার আমি নামাজ পড়তে গেলাম। 

নামাজ শেষ করে, বাড়ি ফেরার পথে আমি মনে মনে ভাবছি উনাদের আস্থার মান রাখতে পারবো কি ' না? 
বাাড়ি ফিরলাম৷ চাচা ওদের পড়ার রুমটা দেখিয়ে দিলো। ওদের পড়ার রুমের টেবিলটা হলো দক্ষিনা বাগানের পাশে। ওখানে অনেক রকম ফুলের সুভাষ৷ পুরো ঘরটা মৌ মৌ করছে। 
এমনি দরজায় ঠক শব্দ। রাফি,  আরফান ঘরে ডুকল৷ আমি বললাম তোমরা বসো। তোমাদের আপু কোথাই? 
রাফি বলল; স্যার আসতেছে। 
রাফি খুব অস্থির স্বভাবের। ওর কথা-বার্তায় তা ক্রমশই প্রকাশ পাচ্ছে। আর আরফান একেবারেই বিপরীত। চুপচাপ, শান্ত প্রকৃতির। 

আমি ওদের পড়ানো শুরু করলাম। কিছু সময় পর, উর্মি আসলো। 
জানালা ঘেঁষে এক বৈরী হাওয়া বয়ে গেলো। 
উর্মি, রাফির পাশের চেয়ারটায় বসল৷ আমি খুব ভয়ে ধীর স্বরে বললাম, দেরি হলো কেনো উর্মি? 
ও চুপ ছিলো।  উত্তর দেয়নি। 
উর্মির এই চুপ থাকার অর্থ মেলাতে পারিনি।  

উর্মি নাজুক বোধহয়। ধবধবে সাদা চামড়া নাহ, শ্যাম-বর্ন, ঠোঁটের এক কোনে একটা তিল আছে। মায়াবী কন্যা। 
পড়ানো শেষ। রাতে খাবার খেয়ে শুয়ে পড়লাম।  ওদের দক্ষিণা বাগানের দিকে ছোট্ট একটা ঘর৷ 
এই ঘরটাই এখন আমার ঠিকানা৷ এই বাড়িটাই আমার এখন আশ্রয়। 

চলবে..............

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

রমজানে মী-টাইম, উই-টাইম বের করা খুব টাফ ছিলো। রমজানের একটা ব্যস্ততা তো থাকেই তার সাথে সাথে সবার অফিসের কাজের চাপ। সবমিলিয়ে আমরা একসাথে থাকলে...