আজকে সকাল থেকেই নিজেকে খুব পরিপাটি লাগছে।
আমি আমার জীবনের ১০০টি ইচ্ছার ব্যাপারে আজ থেকে ওয়াকিবহাল। ব্যাপারটা খুব মজার। একটা ছোট ঘটনা বলি, একবার এক লোক কোথাও একটা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলো, আচ্ছা আপনার ২৫ টি ইচ্ছের কথা বলুন তো যা আপনি পূরণ করতে চান। সেদিন খুব সময় নিয়েছিলাম, প্রচুর ভাবতে হয়েছিলো। ব্যাপরটা চমৎকারভাবে নিজের প্রতি উদাসীনতার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে হলো।
এখনো যে নিজেকে আহামরি গুছিয়ে ফেলেছি তা না। তবে নিজের ১০০টি ইচ্ছের কথা গড়গড় করে বলে দিতে পারবো, এটা খুব স্বস্তি দিচ্ছে। তাই খুব ফুরফুরা আছি সকাল থেকে। নিজেকে সময় দেওয়া প্রতিটি প্রাণের প্রয়োজন। নিজেকে সময় দিলে নিজেকে ঘষামাজা করার পথ গুলো খুলে দেওয়া যায়। সেক্ষেত্রে আগামি টা উৎসবমুখর হয়। বাতাসে সুখ বয়।
যাগ্গে সকালটা কাটালাম তৃপ্তির ঢেকুর তুলে, স্বস্তির সাথে।
দুপুর দিকে পরিচিত একজন অসুস্থ শুনেই হুড়মুড়িয়ে বেরিয়ে পড়লাম। বাসা থেকে বেশ দূরে। টের পেলাম যাত্রাটি সুখকর না। নিয়মমাফিক ভোগান্তিতে পড়তে হলো। কাঠখোড় পুড়িঁয়ে গেলাম। দেখলাম। কথা হলো। শান্তি লাগছে।
আচমকাই নিজের হাতঘড়িটার দিকে তাকালাম। দেখি, আসরের ওয়াক্ত হলো, কিন্তু আযান শুনছি না। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম। যদিও নামাজের সময়টা আমি জানি। তারপরও আযান শুনে নামাজে দাঁড়ালে কেমন যেনো নিজের ভিতরে একটা উদযাপন উদযাপন ফিল হয়।
যাই হোক মিনিট পাঁচেক পর ওখানকার একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি আযান টা মিস করেছি? আযান হয়ে গেছে?
তারপরের উত্তর শোনার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। তিনি বলেন আমাদের এখানে মাইকে আযান দেয় না। আর মসজিদ আমাদের বাসা থেকে দূরে, তাই মুয়াজ্জিনের সুর আমাদের ঘর অবধি আসে না। আমরা অনেকবছর আযান শুনি না।
আমি হতবম্ব হলাম। ভাষাহীন। আমার তো কোনো দিন কাটে না মুয়াজ্জিনের ওই দরদমাখা ডাক ছাড়া। তখন ভাবছি এমন দরদ থেকে বঞ্চিত হওয়া হৃদয়ের কথা। এমন অমৃতস্বর, এমন স্নেহময় আবেদন আর কোথাই পাই আমরা! আযান শুনতে না পাওয়া হৃদয়ের হালচালের কথা ভাবতে ভাবতে দু'টা লাইন আওড়ালাম;
মুয়াজ্জিনের ডাকে;
আমার হৃদয় দুলে-
দোদুল দুল্ দোদুল দুল দোদুল দুল!
০৩/০৮/২১
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন